বাসন্তী আবেশে মুখর সিলেটের এমসি কলেজ, মোহনার বসন্ত উৎসবে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাসন্তী আবেশে মুখর সিলেটের এমসি কলেজ, মোহনার বসন্ত উৎসবে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।..

ছাইম ইবনে আব্বাস, সিলেট।  avatar   
ছাইম ইবনে আব্বাস, সিলেট।
বাসন্তী আবেশে মুখর  সিলেটের এমসি কলেজ, মোহনার বসন্ত  উৎসবে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।..
বাসন্তী আবেশে মুখর  সিলেটের এমসি কলেজ, মোহনার বসন্ত  উৎসবে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস।..
ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্য আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস যেন একসূত্রে গাঁথা হলো বসন্তের রঙে। মুরারিচাঁদ কলেজ এর সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস পরিণত হলো এক বর্ণিল উৎসবমঞ্চে।..

যেখানে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে নিতে গানে, নৃত্যে, কবিতায় আর আনন্দের ঢেউয়ে ভেসে গেল দিনভর আয়োজন। ‘মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ১৮তম বসন্ত বরণ উৎসব যেন শুধুই একটি বার্ষিক অনুষ্ঠান নয় এটি ছিল আবেগ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। মঙ্গলবার সকালে সূর্যের কোমল আলো যখন ক্যাম্পাসের গাছপালায় ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তখন থেকেই ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা। বাসন্তী রঙের শাড়ি, গাঁদা ফুলের মালা, আর পাঞ্জাবির উজ্জ্বলতায় চারপাশ হয়ে ওঠে এক টুকরো রঙিন ক্যানভাস। অডিটোরিয়ামের পাশের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সৃজনশীল করে তোলে মোহনা সেই কাজটিই নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আব্দুল হামিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ বেগম এবং অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকসন দাশ। তাদের কথায় প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে এমন আয়োজনের অপরিহার্যতা। শুরুতেই মোহনার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন উজ্জ্বলের প্রাণবন্ত স্বাগত বক্তব্যে উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো আয়োজনে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি বিশ্ব মঙ্গল দাস। সাবেক সভাপতি শাহ রাকিবুল হাসান রাফি এবং বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল হুমায়রা প্রমির সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পায় এক অনন্য গতি। এসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের সংস্কৃত বিভাগের প্রফেসর সুনীল ইন্দু অধিকারী, অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ফৌজিয়া আজিজ, সহযোগী অধ্যাপক জেবিন আক্তার, শিক্ষক পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক অগ্রাতা সৌরভ, মোহনার সাবেক সভাপতি জুবায়ের আহমেদ রাকিব এবং অনবদ্য সদস্য সায়েম আহমেদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানের সূচনায় মোহনার শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে ভেসে ওঠে রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী গান “আহা, আজি এ বসন্তে”আর সেই সুর যেন প্রকৃতির নবজাগরণের সঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করে এক অপার্থিব আবহ। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা সমবেত সঙ্গীত, একক ও সলো গান, দলীয় ও দ্বৈত নৃত্য, আবৃত্তি, নাটিকা, কোরিওগ্রাফি, ধামাইল গান এবং রঙিন র‍্যাম্প শো। প্রতিটি পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে, কখনো আবেগে ভাসায়, কখনোবা আনন্দে উচ্ছ্বসিত করে তোলে। বিকেলের শেষ প্রহরে, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, তখন লোকগানের সুরে ধীরে ধীরে শেষ হয় আনুষ্ঠানিক আয়োজন। কিন্তু শেষ হয় না সেই আনন্দের রেশ। ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাসি, বন্ধুত্ব, আর রঙিন স্মৃতিগুলো থেকে যায় দীর্ঘ সময়ের জন্য। এই বসন্ত উৎসব যেন কেবল একটি ঋতুকে বরণ করা নয় এটি ছিল হৃদয়ের দরজা খুলে দেওয়া এক সম্মিলিত আনন্দযজ্ঞ। ‘মোহনা’ আবারও প্রমাণ করল, সংস্কৃতির আলো জ্বেলে রাখলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলোকিত হয় আর সেই আলোতেই বেঁচে থাকে একটি জাতির স্বপ্ন, সৌন্দর্য ও আত্মপরিচয়।    

No se encontraron comentarios


News Card Generator