খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রায়ই প্রচার করা হয়— “পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ।” কিন্তু বাস্তবে অনেক সাধারণ মানুষ থানা-মুখী হতে ভয় পান। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ দায়ের করেও তা দীর্ঘদিন পড়ে থাকে এবং দিনাজপুর কোর্ট হইতে তদন্ত রিপোর্টও মাসের পর মাস পরে থাকে এমন অভিযোগ সচেতন মহলসহ সাধারণ মানুষের। গত ২৫/৩/২৬ ইংরেজি তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, বিভাগীয় রেঞ্জ ডিআইজি রংপুর, জেলা প্রশাসক দিনাজপুর, পুলিশ সুপার দিনাজপুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) কাহারোল, দিনাজপুর,উপজেলা নির্বাহী অফিসার বোচাগঞ্জ, দিনাজপুর এবং বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগটি অনেক দপ্তরে গ্রহণ করা হলেও দুঃখজনক বিষয় হলো—বোচাগঞ্জ থানায় খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায় অভিযোগটি শত শত খাতার নিচে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন—“আপনার সন্তান ও জরুরী ফাইল তো আমরা উদ্ধার করতে পারব না, আপনি কোর্টে মামলা করেন।” যদি এ ধরনের ভাষা পুলিশের কাছ থেকে আসে, তাহলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—পুলিশ কি সত্যিই জনগণের বন্ধু? পুলিশ সবসময় বলে—“আমরা জনগণের বন্ধু, আপদে-বিপদে পাশে আছি এবং থাকব।” কিন্তু বাস্তবে যদি সেবা না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, অফিসার ইনচার্জ দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় বোচাগঞ্জ থানার কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। ফলে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অনেকেই থানায় এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এর পাশাপাশি এলাকায় আরও বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। পেট্রোল পাম্পে তেলের সংকট সৃষ্টি করে একটি সিন্ডিকেট মহড়া চালিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অথচ এসব ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অনেক সময় সব দোষ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্যের ওপর। “যত দোষ নন্দ ঘোষ”—এই প্রবাদটির মতোই বর্তমান নবনির্বাচিত তারেক রহমান মহোদয়কে অনেক ক্ষেত্রে সকলের কাছে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে—এ প্রশ্ন আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের। সেতাবগঞ্জ পৌরসভা ও বোচাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে— যেমন চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, জমি দখল, নারী ও শিশু সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা ইত্যাদি। এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অতএব, সেতাবগঞ্জ পৌরসভা ও বোচাগঞ্জ উপজেলার সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে—দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং থানার সেবার মান উন্নত করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।