খাঁন মোঃ আঃ মজিদ দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থানায় চাঞ্চল্যকর গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর বাড়ির অর্থ দিয়ে ৫ শতক জমি ক্রয় করে ইটের ধারী গাঁথনি ও মোটা টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করেছে ও মোটরসাইকেল কিনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বহুল আলোচিত বহুরূপী আশা আক্তার (২৬)-এর বিরুদ্ধে পিতা লাইসুর রহমান (৫৪), ,মাতা লিপি আক্তার (৪৪) স্বামী লাইছুর রহমান, বড় বোন রাশিদা আক্তার (৩০) স্বামী দেলোয়ার হোসেন, ছোট ভাই মোঃ নয়ন মিয়া (২৪) পিতা লাইছুর রহমান, বড় দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন (৩৭) পিতা মৃত মমিন (হামিদুল) , আশরাফুল ইসলাম (৪০) পিতা আব্দুল সামাদ সহ আরও কয়েকজনের নাম এ ঘটনায় উঠে এসেছে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা জালগাও, ৩ নং মুর্শিদাহাট ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সেতাবগঞ্জ পৌরসভা, থানা বোচাগঞ্জ, জেলা দিনাজপুর।এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোর্ট আদালত, কোতোয়ালি থানা এবং বোচাগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা ও চারটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। বাদী আব্দুল মজিদ খান দাবি করেছেন, তিনি কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মামলা করেননি; আল্লাহর দেওয়া সাহস নিয়ে সত্যের পথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ১০-১২-২০২৩ ইং তারিখে আশা আক্তারসহ তার পরিবারের লোকজন বাদী আব্দুল মজিদ খানকে দাওয়াত করে পুরাতন গুচ্ছগ্রাম আবাসন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে । সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তার উপর আতর্কিত হামলা চালানো হয় দেশি অস্ত্র দাঁড়ায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ফুলা-জখম ও রক্তাক্ত করা হয়। ওই সময় বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাদীর ছেলে রাসেল খান, তার বন্ধু শাহিনুর ওরফে চেরা, ঢাকাই পট্টির শহীদ পাড়ার মোঃ নয়ন মিয়া, মোঃ মাসুদ, মোঃ ইমনসহ আরও অনেকে। পরে তাকে দ্রুত বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাদী আরও জানান, মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করার হুমকি দেওয়া হলে তিনি বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বক্কর সিদ্দিকের নির্দেশে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নং ৪/২৩ রুজু হয়, যা দিনাজপুর কোর্টে বিচারাধীন জিআর মামলা নং ১২৯/২৩ হিসেবে চলমান রয়েছে। এরপর ৩০-০৪-২০২৪ ইং তারিখে দিনাজপুর কোর্টের ভেতরে মসজিদের সামনে ইউপি সদস্য মিরা কাশ্মীরী (৪০), স্বামী আব্দুল আলিম, আব্দুল মালেক ওরফে চৌধুরী (৫৫), পিতা মৃত মসির উদ্দিন, মোঃ লাইছুর রহমান সহ আরও কয়েকজন বডিগার্ডের মতো আচরণ করে বাদী আব্দুল মজিদ খানের উপর আবারও আতর্কিত হামলা চালায়। কোর্ট থেকে বের হয়ে পৌরসভার সামনে আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে আবারও তাকে মারধর করা হয় এবং কোমরের বেল্ট, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় এসব নিয়ে দিনাজপুর কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয় যার সিআর মামলা নং ৯০১/২৪ চলমান। পরবর্তীতে আশা আক্তার ও তার পরিবার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার গড়াই হাটুভাঙ্গা মনিপুর এলাকায় বসবাস করাকালীন তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় সিআর মামলা নং ২৪৩/২৪, সিআর মামলা ২৫৪/২৪, বোচাগঞ্জ থানার মামলা নং ৪/২৩ কোর্ট বিচার ফাইল জিআর নং ১২৯/২৩, ২৪-০৮-২০২৫ ইং তারিখে বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। ২৫-০৮-২০২৫ ইং তারিখে বেলা আনুমানিক ১২ দিকে বোচাগঞ্জ থানার ভিতর থেকে আনার সময় কনস্টেবল রত্না বেগম, কনস্টেবল আশা আক্তার কনস্টেবল হায়দার আলী, কনস্টেবল লুৎফর, ডিউটি অফিসার জহুরুল হক এবং সেকেন্ড অফিসার জসিম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কনস্টেবল রত্না বেগম ও কনস্টেবল আশা আক্তারের হাত থেকে ছুটে এসে বিবাদী আশা আক্তার তার পায়ে থাকা শক্ত স্যান্ডেল দিয়ে বাদী আব্দুল মজিদ খানের তলপেট, দুই রান এবং হাঁটুর নিচে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত হন এবং পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ।কয়েকদিন পর তার প্রস্রাবের রাস্তা রক্তক্ষরণ শুরু হলে ২৯-০৮-২০২৫ ইং তারিখে বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ডাক্তার আলিম তাকে চিকিৎসা দেন এবং একটি চিকিৎসা রশিদ প্রদান করেন। এসব বিষয়ে দিনাজপুর কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয় সিআর মামলা নং ২৬৬/২৫ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও জিডি দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ১) বোচাগঞ্জ থানার মামলা নং ৪/২৩ (দিনাজপুর আদালতের বিচারাধীন মামলা নং ১২৯/২৩), ২) দিনাজপুর কোর্ট সিআর মামলা নং ৯০১/২৪, ৩) সিআর মামলা নং ২৪৩/২৪,৪) সিআর মামলা নং ২৫৪/২৪,৫) দিনাজপুর কোর্ট সিআর মামলা নং ২৬৬/২৫ সমন জারি ১০/০৩/২০২৬,৬) দিনাজপুর নির্বাহী আদালতের মামলা নং পি–২৪/২৬।৭) দিনাজপুর নির্বাহী কোর্টের মামলা নং পি ৬৭/২৬ সমন জারি ২৬/০২/২০২৬।এছাড়া দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি নং ২১৯৫/২৪ (নিখোঁজ ডায়েরি) এবং বোচাগঞ্জ থানায় জিডি নং ৩৩৩/২৪ (নগদ টাকা ও অলংকার চুরি সংক্রান্ত) দায়ের রয়েছে। বোচাগঞ্জ থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি নং ৮১৭/২৬ এবং কোটি টাকার সম্পদের জরুরি ফাইল সংক্রান্ত জিডি নং ১০১৫/২৬ রুজু করা হয়েছে।বাদী আব্দুল মজিদ খান অভিযোগ করে বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি ১১টি মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু এখনো অনেক অভিযুক্ত আসামিরা পলাতক রয়েছে এবং তারা পুলিশ প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনার শতাধিক প্রমাণ তার কাছে রয়েছে যা দিনাজপুর কোর্টে উপস্থাপন করা হবে।তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ও মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।