ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা দেশের অন্যতম শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। দ্রুত শিল্পায়ন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং পরিবেশগত চাপের কারণে এ উপজেলার নানা সমস্যা দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানপ্রবাসী তরুণ সমাজসেবক মোঃ ইমরুল কায়েস।
সম্প্রতি এক বার্তায় তিনি বলেন, ভালুকার উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে শিল্প, পরিবেশ, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা-সব দিকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অবহেলিত থাকায় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইমরুল কায়েস বলেন, ভালুকার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তীব্র যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। বিশেষ করে সিডস্টোর, মাস্টারবাড়ি ও ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা এই যানজটের অন্যতম কারণ। মাঝে মাঝে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দখল হয়ে যায়। পাশাপাশি বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো এবং যত্রতত্র রাস্তা পারাপারের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ভালুকায় শত শত টেক্সটাইল, ডায়িং ও গ্লাস কারখানা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি ইটিপি (বর্জ্য পানি পরিশোধনাগার) নেই। ফলে শিল্পবর্জ্য সরাসরি খাল-বিল ও নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় নদী-খাল দূষিত হয়ে পানির রং কালো হয়ে যাচ্ছে এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে দূষিত পানি কৃষিজমিতে প্রবেশ করায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিল্পাঞ্চল হওয়ায় ভালুকায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজ করেন। তবে বিভিন্ন সময় বকেয়া বেতন, লে-অফ বা কারখানা বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেক সময় তারা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে।
কৃষি ও মৎস্য খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, ভালুকা মাছ চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত, বিশেষ করে পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া উৎপাদনে। কিন্তু মাছের খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় অনেক খামারি কাঙ্ক্ষিত মুনাফা করতে পারছেন না। এর পাশাপাশি অজ্ঞাত রোগে মাঝেমধ্যে মাছের মড়ক দেখা দেওয়ায় খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অস্থিরতার মতো সমস্যাও বাড়ছে। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে সহিংসতা বা গণপিটুনির মতো ঘটনাও ঘটে, যা এলাকার স্থিতিশীলতা নষ্ট করে।
এছাড়া পরিকল্পনাহীন নগরায়ণের কারণে ভালুকায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও ক্রমেই বাড়ছে। অনেক নিচু জমি ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভা ও শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এসব সমস্যার সমাধানে নিজেকে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে ইমরুল কায়েস বলেন, আমি ভালুকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের একক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে-যার টাকা আছে, সেই জনপ্রতিনিধি হবে। এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। প্রকৃত জনপ্রতিনিধি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।