স্বৈরতন্ত্র একদিনে আসে না—নীরবতার ভেতরেই তার বীজ বোনা হয় : আকিব হাসান সাদ,সম্পাদক,ডেইলি আওয়ার নিউজ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

স্বৈরতন্ত্র একদিনে আসে না—নীরবতার ভেতরেই তার বীজ বোনা হয় : আকিব হাসান সাদ,সম্পাদক,ডেইলি আওয়ার নিউজ..

Akib Hasan Shad avatar   
Akib Hasan Shad
স্বৈরতন্ত্র একদিনে আসে না—নীরবতার ভেতরেই তার বীজ বোনা হয় : আকিব হাসান সাদ,সম্পাদক,ডেইলি আওয়ার নিউজ..
স্বৈরতন্ত্র একদিনে আসে না—নীরবতার ভেতরেই তার বীজ বোনা হয় : আকিব হাসান সাদ,সম্পাদক,ডেইলি আওয়ার নিউজ..
ছবি: সংগৃহীত
****
 
 
ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরতান্ত্রিক রেজিম হঠাৎ করে জন্ম নেয় না; এটি ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে, আর মানুষের বিশ্বাস, সংকট ও মানসিক দুর্বলতাকে ব্যবহার করেই শক্তিশালী হয়। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য আমরা ইতিহাস ও রাজনৈতিক তত্ত্বের আলোকে একটি কাঠামোবদ্ধ ব্রেকডাউন দেখতে পারি।
 
১. সংকট ও অনিশ্চয়তার সময় :
 
ইতিহাসে দেখা যায়, বড় অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক সংকটের সময় মানুষ “শক্তিশালী নেতৃত্ব” খোঁজে। উদাহরণ:
•Adolf Hitler ক্ষমতায় আসেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও অপমানের প্রেক্ষাপটে।
•Benito Mussolini ইতালিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কমিউনিজম-ভীতির সুযোগ নেন।
 
সংকট মানুষকে নিরাপত্তার বিনিময়ে স্বাধীনতা ছাড়তে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে।
 
২. পরিচয়-রাজনীতি ও “আমরা বনাম তারা”:
 
ফ্যাসিবাদী রাজনীতি সাধারণত একটি নির্দিষ্ট পরিচয় (জাতি, ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি)কে কেন্দ্র করে “বিশুদ্ধ জাতি” বা “একক সত্য” নির্মাণ করে।
 
•The Origins of Totalitarianism-এ Hannah Arendt দেখিয়েছেন, কীভাবে টোটালিটারিয়ান শাসন জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে “শত্রু” নির্ধারণ করে।
 
এই পর্যায়ে:
 
•ভিন্নমতাবলম্বীদের “অমানবিক” বা “রাষ্ট্রবিরোধী” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
 
•অতীতের মূল্যবোধ বা ঐক্যের ভিত্তিকে “অকার্যকর” বা “বিপজ্জনক” বলা হয়।
 
৩. প্রতিষ্ঠানের দখল ও নিয়ন্ত্রণ :
 
কোনো রেজিম টিকে থাকতে চাইলে শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, প্রতিষ্ঠানকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। যেমন :
 
• গণমাধ্যম
• বিচারব্যবস্থা
• শিক্ষা ব্যবস্থা
• বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতি অঙ্গন
 
নাজি জার্মানিতে Gestapo ও প্রচারমন্ত্রী Joseph Goebbels-এর প্রচারণা মেশিন জনমত নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে।
 
বিশ্বাসের ওপর প্রভাব বিস্তারই এখানে মূল কৌশল। কারণ মানুষ যা বিশ্বাস করে, তা-ই অনুসরণ করে।
 
৪. ধীরে ধীরে স্বাভাবিকীকরণ (Normalization) :
 
স্বৈরতন্ত্র একদিনে কড়া দমন-পীড়ন শুরু করে না। প্রথমে ছোট ছোট পদক্ষেপ:
 
•বিরোধী কণ্ঠ সীমিত করা
•আইন পরিবর্তন
•নিরাপত্তার নামে নজরদারি
 
ধীরে ধীরে মানুষ বলে—“এতটা খারাপ নয়”, “স্থিতিশীলতা তো আছে”। এই মানসিক সমঝোতাই রেজিমকে শক্তিশালী করে।
 
৫. স্বার্থ, লোভ ও নৈতিক আপস :
 
আপনি যেটি উল্লেখ করেছেন—“নফস” বা ব্যক্তিগত স্বার্থ—রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
 
মানুষ প্রায়ই:
 
•নিরাপত্তা
•অর্থনৈতিক সুবিধা
•সামাজিক মর্যাদা
 
এর বিনিময়ে নৈতিক আপস করে। ফলে শাসকগোষ্ঠী একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করে, যারা রেজিম রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে।
 
৬. নিয়ন্ত্রিত বিরোধিতা :
 
অনেক সময় শাসনব্যবস্থা সীমিত পরিসরে বিরোধিতা চলতে দেয়—যাতে মানুষ মনে করে পরিবর্তনের সুযোগ আছে। কিন্তু কাঠামোগত ক্ষমতা অটুট থাকে।
 
এটি “কন্ট্রোলড অপজিশন” বা “ম্যানেজড ডেমোক্রেসি” নামে পরিচিত।
 
৭. চূড়ান্ত রূপ: স্বাধীনতার ক্ষয় :
 
শেষ পর্যন্ত:
 
•স্বাধীন গণমাধ্যম ক্ষীণ হয়
•নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়
•নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত হয়
 
এভাবেই একটি সমাজ ধীরে ধীরে স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হতে পারে—কোনো নাটকীয় ঘোষণা ছাড়াই।
 
তাহলে প্রতিরোধের উপায় কী?
 
১. সচেতনতা ও সমালোচনামূলক চিন্তা
২. প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা রক্ষা
৩. ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা
৪. আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
৫. বিশ্বাস ও মূল্যবোধের স্বচ্ছ চর্চা
 
বিশ্বাস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ—ধর্মীয় বা নৈতিক ভিত্তি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারে। তবে ইতিহাস দেখায়, যখন বিশ্বাসকে একচেটিয়া ক্ষমতার হাতিয়ার বানানো হয়, তখন সেটিই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
 
 
“আমি বা আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি?”
 
এই প্রশ্নের উত্তর ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
 
•আমি কি সমালোচনামূলকভাবে ভাবছি?
•আমি কি ভিন্নমতকে শত্রু মনে করছি?
•আমি কি নিরাপত্তার বিনিময়ে স্বাধীনতা ছাড়ছি?
 
ফ্যাসিবাদ বা রেজিম কেবল রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এটি মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া। আর তাই এর প্রতিরোধও শুরু হয় মানুষের চেতনা ও বিশ্বাসের ভেতর থেকেই।
Walang nakitang komento


News Card Generator