মণিরামপুরে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে জমি দখলের অভিযোগ, অবরুদ্ধ পরিবার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মণিরামপুরে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে জমি দখলের অভিযোগ, অবরুদ্ধ পরিবার..

Noor Islam avatar   
Noor Islam
মণিরামপুরে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে জমি দখলের অভিযোগ, অবরুদ্ধ পরিবার..
মণিরামপুরে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে জমি দখলের অভিযোগ, অবরুদ্ধ পরিবার..
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের মণিরামপুরে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে তার জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাজ্ঞী গ্রামের ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুল..

 

পৈতৃক সম্পত্তির মোট ৩৯ শতাংশ জমির মধ্যে বণ্টন অনুযায়ী তার প্রাপ্য হয় ৯.৭৫ শতাংশ। বসতভিটা করার উদ্দেশ্যে তিনি ভাই আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে আরও ৯.৭৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সব মিলিয়ে তার মালিকানাধীন জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯.৫০ শতাংশ।

আব্দুল মান্নান তার বসতভিটা স্ত্রী নাজমা খাতুনের নামে দলিল করে দিলে বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য শরিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, শরিকরা বলেন—তিন কন্যাসন্তান ও স্ত্রী এই ভিটাবাড়ি দিয়ে কী করবে? মেয়েদের বিয়ে হলে তারা শ্বশুরবাড়ি চলে যাবে, বাড়িঘর দেখাশোনা করবে ভাইপোরাই এমন যুক্তি দেখানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মূল জমির দুই পাশে মান্নানের পরিবার ভোগদখল করলেও মাঝখানে থাকবে শরিকদের ফসলি জমি—এমন অযৌক্তিক দাবি তোলা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে বসাবসি হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা খাতুন আদালতে বণ্টন মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় শরিকরা নানা কৌশলে হয়রানি শুরু করে বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীর দাবি, তার বসতভিটায় যাওয়ার পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে, ফসলি জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং চারিত্রিক নানা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—শাহাজান ফকির (৪৮), তার ছেলে সোহান (২২), আব্দুল কুদ্দুস (৩৮), জামাল (৩১), জাহিদ হাসান মিলন ও মোজাম্মেল হোসেন।

এমতাবস্থায় নাজমা খাতুন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। সেখানেও বসাবসি হলেও অভিযুক্তরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সালিশ অমান্য করেন। খেদাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুনসুর নাজমা খাতুনকে ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সে অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হয়।

গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুনসুর বলেন, আমি বলেছি—তোমরা তোমাদের ভাবি আর তার কন্যাদের না খেয়ে মারার ব্যবস্থা কেন করছো? এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। কিন্তু তারা কোনো কথা শোনেনি। তারা জমিতে পানি দেবে না, চাষাবাদ করতে দেবে না—এই অবস্থানে অনড়। 

অন্যদিকে শাহনাজ নামের এক ব্যক্তি বলেন,
আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে বরো মৌসুমে তার জমিতে পানি দেবো না। আমার স্যালো মেশিন দিয়ে এক ফোঁটা পানিও না। অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“আমার ভাবি একজন মামলাবাজ মহিলা। সে তার জমিতে চাষ করবে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমার স্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেবো না, জেল খাটালেও না।

পথ অবরুদ্ধের বিষয়ে মোজাম্মেল হোসেন মুঠোফোনে বলেন,
রাস্তা আমাদের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে। ইট সরকারি হলেও জমি আমাদের। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরে জানাবো।

এ বিষয়ে নাজমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী প্রবাসে। আমি তিনটি সন্তান নিয়ে একা থাকি। স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ওরা আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করছে। ভাগবাটোয়ারায় যা দিয়েছে, সেটাই চুপচাপ মেনে নিয়েছি। এখন বলছে চাষও করতে দেবে না। ৫ শতক জমিতে কি আলাদা স্যালো বসানো সম্ভব? আমরা কি না খেয়ে মরবো?

মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন বলেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি তিনি থানায় পাঠিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রজিউল্লাহ খান দায়িত্ব দেন এসআই উবাইদুল্লাহকে। তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। পানি দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করেছি। এখন দেখা যাক তারা কী করে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator