কালুখালীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও পাশ মাসুল ২ শ টাকা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কালুখালীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও পাশ মাসুল ২ শ টাকা

Nafiz Ahamed avatar   
Nafiz Ahamed
কালুখালীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও পাশ মাসুল ২ শ টাকা
কালুখালীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি ও পাশ মাসুল ২ শ টাকা
ছবি: সংগৃহীত
***************************

নাফিজ আহমেদঃ

সরকারী নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন ২শ টাকা করে ভর্তি ও ৫ম শ্রেণীর পাশ মাসুল নিচ্ছে। অভিভাবকগন বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেও কোন প্রকার লাভ হচ্ছে না। তবে ২ শ টাকা মাসুল গ্রহনের কোন রশিদ দিচ্ছে না প্রধান শিক্ষকগন।

কালুখালী সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না আক্তার। তার বিরুদ্ধে ভর্তি ও প্রশংসা পত্র প্রদানের কথা উঠলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

তবে সরেজমিন ঘুরে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, তিনি  চলতি মাসে ২৭ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিকট থেকে ২ শ টাকা করে প্রশংসা মাসুল ফি নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যে সকল শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র মাসুল নেওয়া হয়েছে তারা হলো,আদিত্য,আহাদ,মুন,অনন্ত,ইমি,জান্নাতি,আমিষা,মাইমুনা,মিথিলা, আসনিয়া মিম, নিঝুম,সুস্মিতা নিঝুম,তাসরিফ,লামিয়া,সাইফুল,ব্বি,রাফিল,আদনান,সামিয়া সেফা,সাবাব,আফিয়াহ,সিজান স্নিগ্ধা,সূর্যরাহা,তানিসা,তুতুল ও তামীম।

এছাড়া গড়িয়ানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধেও ২ শ টাকা করে ভর্তি ও  প্রশংসাপত্র মাসুল গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী ভর্তি ও ৫ম শ্রেণীর প্রশংসা  মাসুল নিচ্ছে বলে মৌখিক অভিযোগ করেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন মাত্র  এক জনের কাছ থেকে ২ শ টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান, টাকা গ্রহন বাবদ তিনি কোন রশিদ দেননি । পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন ওই শিক্ষককে এ ধরনের টাকা গ্রহন না করার জন্য সতর্ক করেন। তবে পরিদর্শনের পরদিনই তিনি পুনরায় প্রশংসা পত্র মাসুল হিসেবে ২শ টাকা করে গ্রহন করেন। সতর্ক করার পর  তিনি সিহাব,অয়ন,লক্ষী পাল সহ ২০ জনের কাছ থেকে ২ শ টাকা করে গ্রহন করেছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষক আরজিনা খাতুন জানান, সকল স্কুলেই প্রশংসা পত্র ও ভর্তি ফি নেওয়া হয়,তাই আমিও নিচ্ছি।

সরকারী মনোগ্রাম ব্যবহার করে তৈরি প্রশংসা পত্র প্রদান ও অর্থ গ্রহন ভোক্তা অধিকার আইনের লংঘন। এই আইনে অপরাধ করলে জেল ও জরিমানার বিধান আছে।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষক আরজিনা খাতুন কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্কুল পরিচালনা করেন। যোগ্যতা না থাকলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। তিনি এইচ,এস,সি পাশ করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। সরকারী বিধি মোতাবেক উচ্চ শিক্ষার জন্য তাকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহনের কথা থাকলেও আরজিনা খাতুন কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করেছে।

আরজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে স্কুলের সম্পদ নষ্ট করারও অভিযোগ আছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্রশংসা পত্র বাবদ টাকা গ্রহনের কোন সুযোগ নেই। কেউ গ্রহন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Nema komentara


News Card Generator