সিরাজগঞ্জে নতুন বাস স্ট্যান্ড ঘিরে বেপোরোয়া চাঁদাবাজ চক্র,নেপথ্যে সেচ্ছাসেবকদল নেতা ।.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সিরাজগঞ্জে নতুন বাস স্ট্যান্ড ঘিরে বেপোরোয়া চাঁদাবাজ চক্র,নেপথ্যে সেচ্ছাসেবকদল নেতা ।..

শাহরিয়ার মোরশেদ avatar   
শাহরিয়ার মোরশেদ
সিরাজগঞ্জে নতুন বাস স্ট্যান্ড ঘিরে বেপোরোয়া চাঁদাবাজ চক্র,নেপথ্যে সেচ্ছাসেবকদল নেতা ।..
সিরাজগঞ্জে নতুন বাস স্ট্যান্ড ঘিরে বেপোরোয়া চাঁদাবাজ চক্র,নেপথ্যে সেচ্ছাসেবকদল নেতা ।..
ছবি: সংগৃহীত
রাধানগর এলাকার আলাউদ্দিন ও হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সেচ্চাসেবকদলের  সিনিয়র যুন্গ আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ এর নেতৃত্বে তারা একটি সমিতি করে। এবং পরবর্তীতে আলাউদ্দিন, লতিফ,  উত্তরপাড়ার লতিফ, জহুরুল, মোমিন, সাকাওয়া..

 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি - 

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল  ইন্টারচেন্জ এর কাজ চলমান, ইন্টারচেন্জ এর কাজ করার জন্য পুরাতন ঐতিহ্যবাহী গোলচত্তরটি ভাঙ্গার পর চার পাশে গড়ে উঠেছে তিনটি নতুন  বাস স্ট্যান্ড। গোলচত্তরের পূর্বপাশে  ঢাকা- পাবনা মহাসড়কে পাবনা বাসস্ট্যান্ড ও  পশ্চিম পার্শে  ঢাকা- রাজশাহী গামী রাজশাহী নাটোর বাসস্ট্যান্ড ও এবং গোলচত্তরটির  উত্তর পার্শে  ঢাকা- বগুড়া মহাসড়ক ঢাকা বগুড়া বাসস্ট্যান্ড।
এর মধ্যে সবচেয়ে বাস্ত্যতম বাস স্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা বগুড়া বাসস্ট্যান্ড। 
২২ জেলার মানুষের ঢাকাগামী দূরপাল্লার  পরিবহনগুলোর বাস স্টপিজগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। 
পাবনা - নাটোর,রাজশাহী, বগুড়া সহ ২২ জেলার পরিবহনগুলো  গোলচত্তর ঘুরে ঢাকা বগুড়া বাসস্ট্যান্ডেই  যাত্রী  উঠানামা করায়। 
প্রতিদিন প্রায় দশ  থেকে পনের হাজার মানুষের সমাগম ও উঠানামা হয় এই স্টপেজেই। 
আর এই নতুন ব্যাস্ততম  বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরেই সম্প্রতি গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র। 
পুরাতন গোলচত্তরটি ভাঙার পর রাধানগর, ধোপাকান্দি, চকপাড়া, উত্তরপাড়াসহ স্থানীয় যুবকদের চাঁদা তোলার কাজে ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে গুটি কয়েক লিড দাতা চক্রের সদস্যরা। 
স্থানীয় লোকজন ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ধারনা মোতাবেক চক্রটির সদস্য রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ জনের মত। 
জানাযায়, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী,ও  ঢাকা- চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, কক্সবাজার গামী  দূরপাল্লার বাস গুলো যাত্রী বুক করলে চাঁদাবাজ সদস্যদের দিতে হয় ৫শ  থেকে ১ হাজার  টাকা। দুই থেকে তিনজন  যাত্রী তুললে দিতে হয় ৫০, ১০০, ২০০  টাকা। 
চাঁদার টাকা তোলার জন্য রয়েছে নিজস্ব বাহিনী। 
যাত্রী উঠানামার সময় চেইনমাস্টার পরিচয়ে এগিয়ে যান একাধিক যুবক। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তুলতে দেওয়া হয় না যাত্রী। 
এতে ভোগান্তিতে পরছে সাধারণ যাত্রী। বর্ধিত ভাড়ায় পৌঁছাতে হচ্ছে গন্তব্য। 

সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী বাস মালিক সমতির আন্ডারে  সিরিয়াল মেইনটেইন  ও গাড়ি চেক  দেওয়ার জন্য  হাতে গোনা কয়েকজন চেইনমাস্টার  নিয়োগ দেওয়া থাকলেও, 
 বাসস্ট্যান্ডের অধিকাংশ লোকই  চেইনমাস্টার ও পরিবহন শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে তুলছেন অবৈধ চাঁদা।
চাঁদার টাকা ভাগবাটোয়ারা ও নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর হাতে। 
এর মধ্যে রাধানগর এলাকার আলাউদ্দিন মন্ডল (৪৫) ,হাটিকুমরুল ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের নেতা  আব্দুল  লতিফ (৩৫),  চরিয়া শিকার উত্তর পাড়া এলাকার কুরমান আলীর ছেলে  আব্দুল লতিফ (৪৫),  মসলেম উদ্দিন (৪০), ও মুজাউদ্দিনের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৪০), চকপাড়া এলাকার আব্দুল মমিন (৩৫) ও  সাকাওয়াত সহ বেশ কয়েকজন। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী ও চেকার,  পরিবহন সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও সিরিয়াল মেইনটেইন কারীদের অনেকেই জানান, সিরাজগঞ্জ রোড গোলচত্তর ভাঙার পর নতুন ভাবে রাধানগর এলাকায় নতুন বাসস্ট্যান্ড ও কাউন্টার গড়ে উঠেছে। এই  সুযোগে রাধানগর এলাকার আলাউদ্দিন ও হাটিকুমরুল ইউনিয়নের সেচ্চাসেবকদলের  সিনিয়র যুন্গ আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ এর নেতৃত্বে তারা একটি সমিতি করে। এবং পরবর্তীতে আলাউদ্দিন, লতিফ,  উত্তরপাড়ার লতিফ, জহুরুল, মোমিন, সাকাওয়াত মিলে বাকি সাদস্যদের দিয়ে বাস থেকে গাড়ি প্রতি চাঁদা তুলছে। এখান থেকে গাড়ি ভড়লেই তাদের লোক এসে দাড়িয়ে থাকে তারা গাড়ি প্রতি ৫শ থেকে ১ হাজার  টাকা নিয়ে যায়। এবং দুই একটা যাত্রি তুললেও তাদের ৫০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হয়। 
সমস্ত টাকা একজায়গায় জমায়েত হয়ে দিন শেষে লেভেল বুঝে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। এই টাকার একটি বড় অংশ স্থানীয় নেতাকর্মী,  পুলিশ ও  সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্যও ভাগ রাখা হয়।
এদের জন্য বাস মালিক সমিতির নির্ধারিত লোকজনও গাড়ির কাছে যেতে পারে না। 
গেলেই তাদের এলাকার উঠতি বয়সি পোলাপান দিয়ে হেনস্থা করা হয়।
এমনকি কাউন্টার মাস্টার ও চেকাররাও তাদের হাত থেকে রেহায় পায় না। 
বাসস্ট্যান্ড থেকে তারিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি প্রতি কাউন্টার থেকেও তারা টাকা নিয়ে থাকে, টাকা না দিলে কাউকেউ এখান থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না। 
আমরা একপ্রকার জিম্মি হয়ে পরেছি। নাম প্রকাশ করলেও সমস্যা পরদিন আর আমরা বাসস্ট্যান্ডে যেতে পারব না, তাই আমরা চুপ করে থাকি। 
যে যেমন পারছে গাড়ি থেকে টাকা রেখে দিচ্ছে, আর টাকা না দিলে রোড থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না। 
এসব বন্ধ হওয়া উচিত, এভাবে চলতে থাকলে, ভাড়ার অর্ধেক টাকা এদেরকেই দিয়ে যেতে হবে। 

এব্যাপারে আব্দুল লতিফ জানান, আমরা চাঁদাবাজি করিনা, সিরিয়াল মেইনটেইন করি, মহাসড়কে যানজট বাধে এখানকার পোলাপান জানজটের সময় পুলিশকে সহযোগী করার জন্য যায়।
আলাউদ্দিন এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইসমাইল হোসেন জানান,চাঁদাবাজির বিষয়টি জানতাম না খোজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। 

সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি, ইমাম জাফর  জানান, নির্ধারিত কোন ব্যাক্তি হেনস্থার শিকার হলে, অথবা  কেউ  অভযোগ দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করব। 

রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন,যারা চাঁদাবাজি করছে  তাদের খোজ খবর নিয়ে আইনগন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

হাইওয়ে বগুড়া রিজিওন এর পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ জানান, মহাড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ সবসময় তৎপর। আমি চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব। 

Ingen kommentarer fundet


News Card Generator