হজ্জের টাকা ফেরৎ চাওয়াতে মাদ্রাসা শিক্ষকের উপর হামলা, থানায় অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ভিটিপাড়া ইব্রাহিমীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক লুৎফর রহমানের উপর হামলা করে একই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ ঘটনায় কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কটিয়াদী থানাধীন ভিটিপাড়া ইব্রাহিমীয়া দাখিল মাদ্রাসার অপর শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমানের কাছে পাওনা টাকা ফেরৎ চাইলে মাদ্রাসা অফিস কক্ষে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় তার সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে অভিযোগ অনুযায়ী, নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মনির মিয়া ও রুহুল আমিনসহ কয়েকজন লোহার রড ও লাঠিসোঁটা হাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিক্ষক মোঃ লুৎফুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঘটনার পর রাতের আঁধারে তার বসতবাড়ির পাশের খালের পাড়ে থাকা চারা গাছ ভেঙে ফেলা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয় এবং সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নামি বেনামি ভুয়া আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় পরদিন ২ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে মোঃ লুৎফর রহমান বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে শিক্ষক মোঃ লুৎফুর রহমান অত্র মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা মো: আব্দুল ছালামের ছেলে।
অভিযোগে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে —নবনির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি; মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪২), মোঃ মনির মিয়া (৩২); এবং মোঃ রুহুল আমিন (৩৫)।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সামাজিক ও পেশাগতভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
কটিয়াদী মডেল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।