হামলা আড়াল করতে দলবদলের ভিডিও! কুষ্টিয়ার  বটতৈলে রাজনৈতিক উত্তাপ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

হামলা আড়াল করতে দলবদলের ভিডিও! কুষ্টিয়ার  বটতৈলে রাজনৈতিক উত্তাপ..

Badsha Alamgir avatar   
Badsha Alamgir
হামলা আড়াল করতে দলবদলের ভিডিও! কুষ্টিয়ার  বটতৈলে রাজনৈতিক উত্তাপ..
হামলা আড়াল করতে দলবদলের ভিডিও! কুষ্টিয়ার  বটতৈলে রাজনৈতিক উত্তাপ..
ছবি: সংগৃহীত
****

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৪নং বটতৈল ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন পোস্টধারী নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা–কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও শঙ্কা।

অভিযোগ রয়েছে—হামলার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ‘জামাতের পোস্টার পড়ানো’ এবং ‘দলবদলের নাটক’ সাজিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে হামলার বিষয়টি আড়াল করে অন্যদিকে জনমত ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

স্থানীয় বিএনপির সভাপতি হাজী মোঃ শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক হাজী আনিসুর রহমান বলেন, বিএনপির কোনো নেতা–কর্মী জামাত ইসলামীতে যোগ দেয়নি, বরং আওয়ামী লীগের কিছু পোস্টধারী নেতা নিজেদেরকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নাটকীয়ভাবে ভিডিও বানান এবং তা ভাইরাল করেন। তারা অভিযোগ করেন, ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে প্রকৃত হামলাকারীদের দায় অন্য কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। তাদের দাবি—এটি ছিল সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচার, যার উদ্দেশ্য ছিল হামলার সত্যতা আড়াল করা।

এদিকে অতর্কিত সেই হামলায় আহত কয়েকজন বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পরিবারগুলোর অভিযোগ, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে অস্ত্র-লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ চালায় এবং আহতদের ওপর বেধড়ক মারধর করে। আহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে, ফলে সাধারণ মানুষও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বটতৈল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে মৌখিক বিরোধ বাড়তে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় হঠাৎ এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের জন্যই এমন হামলা সংগঠিত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওটি যদি সত্যিই সাজানো হয়, তবে তা রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করবে এবং দুই দলের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল আরও উঁচু করবে। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে। অপরদিকে, সাধারণ মানুষও দাবি তুলেছেন—রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে যেন আর কারও ওপর হামলা না হয় এবং প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে।
আহতদের পরিবার জানিয়েছেন, তারা ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তারা বলেন, “আমাদের ছেলেদের এভাবে মারধর করে অচেতন করা হয়েছে। আজ হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। আমরা শুধু চাই—যারা হামলা করেছে, তাদের বিচার হোক।”
এই ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করেনি স্থানীয় প্রশাসন। তবে তারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator