ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডে সাতজন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় ছাত্রদল নেতা সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। বৃহস্পতিবার ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।
চার্জশিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আখতার মোর্শেদ উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র এবং এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহরিয়ার আলম সাম্য প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সময় কাটাতেন। সাম্য ও তার বন্ধুরা মাদক বিক্রি বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করতেন, যার ফলে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে তাদের শত্রুতা তৈরি হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৩ মে রাতে সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই সাম্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। সাতজন আসামির বিরুদ্ধে পেনাল কোডের পাঁচটি ধারায় অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
চার্জশিট অনুসারে, মাদক কারবারি মেহেদী হাসান ছিল এই চক্রের দলনেতা। তার সহযোগী মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন উদ্যানে মাদক বিক্রির মূল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত।
১৩ মে রাতে সাম্য বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে মুক্তমঞ্চের কাছে কবুতর রাব্বিকে ইলেকট্রিক ট্রেজারগানসহ দেখতে পান। সাম্য তাকে থামতে বললে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কবুতর রাব্বির চিৎকারে চক্রের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে সাম্য ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় কবুতর রাব্বির হাতে থাকা সুইচগিয়ার (চাকু) দিয়ে সাম্যর ঊরুতে আঘাত করা হয়। সাম্য রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনার কয়েক দিন আগে মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে রিপন ও রাব্বির সঙ্গে দলনেতা মেহেদীর দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। সেই উত্তেজনা থেকেই মেহেদী তার সহযোগীদের রক্ষার্থে সুইচগিয়ার ও ইলেকট্রিক ট্রেজারগান কিনে দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সাম্য হত্যার হাতিয়ার হয়।
ঘটনার পর সাম্যর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। ডিবি পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন: মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন।
অন্যদিকে, তদন্তে জানা যায় সুজন সরকার, তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক ও পলাশ সরদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। বরং তারা সাম্যকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ডিবি পুলিশ তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আখতার মোর্শেদ বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শাহরিয়ার আলম সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। তদন্তে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে যে, মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াই হত্যার মূল কারণ।"