জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হতাশা এবং দলের নেতাদের 'উত্তেজিত' আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই বিএনপির তড়িঘড়ি করে প্রার্থী মনোনয়ন ঘোষণা করা দলটির জন্য 'বুমেরাং' হতে পারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, "এমন তো হবার কথা ছিল না"। তাঁর মতে, প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুসের সরকারকে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও ঐক্যমত্য কমিশন যা বলেছে বা করেছে, তার কোনোটিই প্রত্যাশিত ছিল না। বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির তৈরি করা আন্দোলনের মোমেন্টাম 'লন্ডন বৈঠকের' মধ্য দিয়ে 'ডিফিউজ' করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি এখন এমন এক জটিল অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যা থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জুলাই সনদ ও ঐক্যমত্যের অভাব
-
নতুন কমিশনের গুজব: বাজারে এমন খবর বের হয়েছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আরেকটি নতুন কমিশন গঠিত হবে। যার প্রধান হবেন প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস এবং ভাইস চেয়ারম্যান হবেন প্রফেসর আলী রিয়াজ। যেখানে কয়েক মাস পরেই নির্বাচন হওয়ার কথা, সেখানে নতুন সরকারের বাস্তবায়নের কথা থাকা সত্ত্বেও এই কমিশন গঠনের খবর জটিলতা বাড়াচ্ছে।
-
আসিফ নজরুলের চরমপত্র: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যমতে আসতে হবে। যদি দলগুলো ঐক্যমতে না আসে, তাহলে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত 'ইম্পোজ' বা চাপিয়ে দেবে।
-
নিরপেক্ষতার প্রশ্ন: বর্তমানে কোনো দলই সরকারকে নিরপেক্ষ বলছে না এবং কোনো দলই সরকারের পক্ষে কথা বলছে না।
বিএনপির ভুল কৌশল ও আচরণ
-
নির্বাচনে বিপদ: বিশ্লেষক মনে করেন, বিএনপি যদি মনে করে 'যেকোনওভাবে একটা নির্বাচন হলেই হলো', তবে সেই নির্বাচন তাদের জন্য আরও ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। কারণ একই ভুল (অংশ নিয়ে প্রতারিত হওয়া) বারবার করা ঠিক হবে না।
-
উত্তেজিত আচরণ: গত কয়েক মাসে বিএনপির নেতাদের মধ্যে উত্তেজিত হওয়া বা ক্রোধ দেখানোর প্রবণতা বেড়েছে। যখন তাদের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে বা সমালোচনা করা হচ্ছে, তখনই তারা রাগ দেখাচ্ছেন। তাদের এই উত্তেজিত আচরণ—যেমন কথা বলার সময় আঘাত করা—ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে, যা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
-
'বুমেরাং' মনোনয়ন: নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা 'বুমেরাং হবে'। এতে প্রতিটা আসনে আকাঙ্ক্ষী অসংখ্য প্রার্থীর মধ্যে বিরোধ আরও স্পষ্ট হবে, এবং নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি হবে।
সমাধান ও শেষ আহ্বান
সমগ্র রাজনৈতিক জটিলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিশ্লেষক একটি দ্রুত, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।