সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ সম্প্রতি নারকীয় রূপ নিয়েছে। দেশটির উত্তর দারফোর প্রদেশের রাজধানী এল ফাশের শহরে ভয়াবহ গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) গত সপ্তাহে শহরের দখল নেওয়ার পর একদিনেই অন্তত দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তাগুলোতে শত শত মরদেহ পড়ে আছে, কিন্তু প্রাণভয়ে বাকিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কবর দেওয়ারও কেউ নেই। চলমান এই গৃহযুদ্ধ ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়েই এই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে।
এল ফাশের শহরে আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে চরম নির্মমতায় হত্যার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শুধুমাত্র একটি হাসপাতালেই ৪৫০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আরএসএফ অনেক অভিভাবকের সামনেই তাঁদের সন্তানকে হত্যা করেছে। হত্যাযজ্ঞ থেকে পালিয়ে অন্য অঞ্চলে রওনা হওয়া অনেকেই পথেই মারা গেছেন বলেও জানানো হয়েছে। মহাকাশ থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রেও এল ফাশেরের বিশাল অঞ্চলে লালচে রঙ দেখা গেছে, যা রক্তপাতের ইঙ্গিত দেয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে এল ফাশের শহর থেকে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়েছে। এই সংঘাতের কারণে ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে শহরটিতে আটকা পড়া মানুষজন। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলমান এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত সমগ্র সুদান জুড়ে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাকে জাতিসংঘ বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করছে।
ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ আল বুরহান এবং তাঁর সহকারী আরএসএফ নেতা জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো-এর মধ্যে শুরু হয় এই গৃহযুদ্ধ। প্রায় এক লাখ আরএসএফ সদস্যকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা এবং নতুন যৌথ বাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে এই দুই জেনারেলের মতবিরোধই সংঘাতের প্রধান কারণ।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সরকারকেই স্বীকৃতি দিচ্ছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আরএসএফকে মদদ দিচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আরএসএফ নেতা জেনারেল দাগালো সুদানের সোনার খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং আরব আমিরাতে সেই সোনা পাচার করেন। একই সাথে, আরএসএফ দখলে থাকা অঞ্চলটিকে আরব শাসিত নতুন দেশে পরিণত করাকে তাদের লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে বলেও জানা যায়। যদিও উপসাগরীয় দেশটি বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে। এই সংঘাত নিয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ কম থাকায় যুদ্ধটি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।