বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে, তা অচিরেই কেটে যাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো পরাজয় মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। এই জাতি সবসময় প্রতিবাদের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তাই বর্তমান অচলাবস্থা থেকেও মুক্তির পথ তারা খুঁজে নেবে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে গণসংহতি আন্দোলনের জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের সবার মনে রাখতে হবে—এই দেশ আমাদের, এই মানুষও আমাদের। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের ঐক্যই পারে সরকারের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করতে।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশন গঠন করে যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতা নিয়ে এসেছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই সংকট স্থায়ী নয়। কারণ এই দেশের জনগণ কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না।”
মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। সবাই মিলে নির্বাচনের পথে এগোতে হবে, যাতে জনগণের কল্যাণে সত্যিকারের একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অতীতেও আমরা কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করতে প্রস্তুত—কিন্তু সরকারকে আগে তাদের তৈরি করা সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবর্তে বিভাজন ও ভয় দেখানোর নীতি গ্রহণ করেছে। অথচ, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন ছিল সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা। “আমরা সংলাপ চাই, আমরা সংঘাত চাই না,”—বলেই তিনি বলেন, “রাজনীতিতে লড়াই থাকবে, কিন্তু সেটি হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয়।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা যেকোনো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে জানে। তাই আমি নিশ্চিত—বর্তমান সংকটও জনগণের শক্তিতেই কাটবে।”
তিনি সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে একসাথে কাজ করার জন্য। “আজ সময় এসেছে, মতভেদ ভুলে দেশের ভবিষ্যতের জন্য একসাথে এগিয়ে যাওয়ার,”—বলেই তিনি বক্তব্য শেষ করেন।