কিংবদন্তি চিত্রনায়ক সালমান শাহ'র রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ময়নাতদন্তের দিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে কর্তব্যরত একজন সহকারী। রাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্পন্ন হওয়া সেই ময়নাতদন্তের দিনটিতে কেমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন সেই সময়ের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও মর্গ সহকারী।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ'র অকাল মৃত্যুর পর তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সেদিনের দায়িত্বে থাকা মর্গ সহকারী জানান, ঘটনাটি ছিল 'হৃদয় বিদারক', যা সম্পন্ন করা হয় 'রাষ্ট্র এবং আইনের স্বার্থে'। সেদিন অফিস কার্যত বন্ধ থাকলেও দুপুরে একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে তিনি প্রথম মৃত্যুর খবর পান। এরপর দ্রুতই ম*র্গে অভূতপূর্ব ভিড় জমে যায়, যেখানে পুলিশ প্রশাসন এবং শোবিজ অঙ্গনের বহু তারকা উপস্থিত হন, যা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তোলে।
ম*র্গ সহকারী জানান, যেদিন ঘটনাটি ঘটে সেদিন তাঁদের অফিসে কাজের চাপ কম ছিল। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা মিলে ময়নাতদন্তের কক্ষ পরিষ্কার করছিলেন। ঠিক সেই সময় একজন সাংবাদিক এসে তাঁকে সালমান শাহ'র মারা যাওয়ার খবর দেন। শুরুতে এই খবর বিশ্বাস না হওয়ায় তিনি সাংবাদিককে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে খোঁজ নিতে বলেন।
তবে এর দশ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চারদিক থেকে লোকজন এসে ম*র্গে ভিড় করতে শুরু করে। ভিড়ের মধ্যে গণমাধ্যমের কর্মীরাও ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও দ্রুত চলে আসে।
ডেড বডি আসার পর ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত প্রস্তুত করা হয়। সহকারী জানান, সেসময় মোবাইল ফোনের চল না থাকায়, তিনি কয়েন ফোন ব্যবহার করে কর্তব্যরত ডিউটি ডাক্তার, ডাক্তার তেজ স্যার-কে ফোন করে খবর দেন। কাগজপত্রের প্রস্তুতি শেষ হতেই ডাক্তার দ্রুত চলে আসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের সময় সেখানে পুলিশ এবং শোবিজ অঙ্গনের অনেক বড় বড় অভিনেত্রীসহ অনেকেই ভিড় করেন। জনসমাগম এতটাই বেশি ছিল যে পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে পারছিল না, এবং এই ভিড়ের কারণে তাঁদের কাজ করতেও অসুবিধা হচ্ছিল।
ময়নাতদন্তের পুরো প্রক্রিয়াটি, যার মধ্যে কাটাছেঁড়া, সেলাই করা ও দেহ গোছানো অন্তর্ভুক্ত ছিল, তা শেষ করতে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সহকারী বলেন, "গলায় যে একটু মনে হয় দাগের মত ছিল," যতদূর তাঁর মনে পড়ে।
তবে তিনি কঠোরভাবে উল্লেখ করেন, তিনি ছিলেন একজন চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী এবং ডাক্তার সাহেবের অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে শুধুমাত্র কাজ করেছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তৈরি এবং ফলাফল প্রকাশের দায়িত্ব তাঁর নয়; সেই রিপোর্ট দেওয়ার মালিক কেবল পোস্টমর্টেম সম্পন্নকারী প্রধান চিকিৎসক।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশি পাহারায় ডেড বডি তাঁর পরিবারের (গার্জিয়ানের) কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সহকারী আরও যোগ করেন, এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু (ট্রাজেডি) কেউ কামনা করে না। এটি তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব, যা তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পালন করেছেন।