বিটিভি চট্টগ্রামে জিএম-এডি'র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বিটিভি চট্টগ্রামে জিএম-এডি'র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বিটিভি চট্টগ্রামে জিএম-এডি'র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ..
বিটিভি চট্টগ্রামে জিএম-এডি'র বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ..
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞ বাদ দিয়ে নিজেরাই নিচ্ছেন সেশন, অনুষ্ঠান নির্মাণ ও টেন্ডারেও অনিয়মের অভিযোগ....

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নামে ‘হরিলুট’ চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ইমাম হোসেন এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নিজেরাই 'রিসোর্স পারসন' বা প্রশিক্ষক হিসেবে সেশন পরিচালনা করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, প্রশিক্ষক হিসেবে প্রতি এক ঘণ্টার সেশনের জন্য সরকারি বরাদ্দ দুই হাজার টাকা। প্রতিটি প্রশিক্ষণ বা কর্মশালায় ৬ থেকে ৭টি সেশন থাকে, যা থেকে এই দুই কর্মকর্তা যৌথভাবে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা সম্মানী হিসেবে গ্রহণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, কেন্দ্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ অন্যান্য কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও তাদের ডাকা হয় না, কিংবা বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষক আনা হচ্ছে না। এর ফলে প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর (স্মারক নং- ১৫.৫৪.১৫৪৩.০২১.২৫.০০২.২৪.১১৮৩) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৭ সেপ্টেম্বর 'পাবলিক প্রকিউরমেন্ট' সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। প্রশিক্ষণের মোট সাতটি সেশনের মধ্যে জিএম ইমাম হোসেন তিনটি এবং সহকারী পরিচালক আকতার হোসেন একাই চারটি সেশন নেন।

এর আগেও, গত ১৮ আগস্ট (স্মারক নং- ১৫.৫৪.১৫৪৩.০২১.২৫.০০২.২৪.১০৭০) জারি করা বিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০ আগস্ট 'পিপিআর-২০০৮ ও আর্থিক ক্ষমতಾರ್পণ নীতিমালা' বিষয়ে আরেকটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ২৪ জন অংশগ্রহণকারীর ওই প্রশিক্ষণে মোট ছয়টি সেশনের তিনটি জিএম এবং তিনটি সহকারী পরিচালক আকতার হোসেন পরিচালনা করেন। এই প্রশিক্ষণেও কোনো দক্ষ রিসোর্স পারসনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

জিএম ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনুষ্ঠান নির্মাণে অর্থ লুটপাট এবং টেন্ডারবাজির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত রমজান মাসে পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার বেশিরভাগ অনুষ্ঠান ইনডোরে ধারণ করা হলেও, সেগুলোকে বর্হিদৃশ্য (আউটডোর) দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া, একই দিনে ৭-৮টি পর্ব ধারণ করেও ভিন্ন ভিন্ন তারিখে ধারণ দেখিয়ে প্রযোজকদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জিএম ইমাম হোসেনের আচরণে তারা অতিষ্ঠ। তিনি চুক্তিভিত্তিক শিল্পীদের সম্মানী থেকে কথায় কথায় টাকা কেটে রাখেন এবং সরকারি কর্মচারীদের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি প্রদানেও গড়িমসি করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিল থেকেও তিনি সুযোগ বুঝে টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ব্যাপক স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। একটি নির্দিষ্ট বলয়ের বাইরের প্রযোজক বা শিল্পীরা অনুষ্ঠান পাচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগীরা জানান। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদ বঙ্গবাসী, ফাহমিদা রহমান, আব্দুল মান্নান রানা, ইকবাল পিন্টু, আলেয়া আরিফসহ কিছু নির্দিষ্ট শিল্পী ও প্রযোজক নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন, যাদের বেশিরভাগের বাড়ি ফেনী ও কুমিল্লা জেলায়। এ কারণে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে এখন অনেকে 'ফেনী শাখা' বলেও কটাক্ষ করছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব সুবিধাভোগী শিল্পীদের অনেকেই অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর গান করলেও ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের রাজনৈতিক চেহারাও বদলে ফেলেছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator