'জুলাই গণঅভ্যুত্থানের' এক বছর পার হলেও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এখনো 'ফ্যাসিবাদী' প্রভাবমুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন 'ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন'-এর নেতৃবৃন্দ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও বিটিভিতে পূর্ববর্তী সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তা এবং 'ছাত্র হত্যার মিডিয়া কুশীলবরা' বহাল তবিয়তে আছেন বলে দাবি করে এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সাথে আরও ৯টি সমমনা সংগঠন এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিটিভির বর্তমান চুক্তিভিত্তিক মহাপরিচালক (ডিজি) মাহবুবুল আলম 'আওয়ামী পুনর্বাসনে' ব্যস্ত এবং দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের আশ্রয় দিচ্ছেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, "বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘জুলাই গণহত্যায় বিটিভির কুশীলব’-দের একজনকেও গ্রেপ্তার, বরখাস্ত, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা সামান্যতম বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।"
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যার অন্যতম 'মিডিয়া কুশীলব' উপ-মহাপরিচালক সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ, আন্দোলন চলাকালে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ও বিটিভির প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার কমিটির প্রধান শামছুল আলমকে (যাকে পরে পদোন্নতি দেওয়া হয়) এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এছাড়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলাকারী তৎকালীন জিএম মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, "শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেও তার আস্থাভাজন কর্মকর্তারা এখনো বিটিভিতে বহাল রয়েছেন।" তারা অভিযোগ করেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মহসিনের প্রভাবে তার স্ত্রী সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে শামছুল আলম এখনো বিটিভিতে প্রভাব খাটিয়ে যাচ্ছেন।
বর্তমান ডিজি মাহবুবুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, তার নির্দেশনায় বার্তা বিভাগে ছাত্রলীগ কর্মীকে সংবাদ উপস্থাপিকা বানানো, বিশেষ ক্যাটাগরির শিল্পীদের বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং 'নতুন কুঁড়ি' অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে বিটিভিতে 'জুলাই গণহত্যার কুশীলব' হিসেবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জোর দাবি জানানো হয়।
ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি এম রফিকুল ইসলাম রিপন, ন্যাশনাল লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. শফিকুল ইসলাম এবং ডিইউজে সদস্য তাজুল ইসলাম।
কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন। এছাড়া ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ স্বপ্নীল সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।