ইসরায়েল রেড ক্রসের মাধ্যমে ৩০ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ গাজায় ফেরত দিয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর এখন পর্যন্ত মোট ১২০ জনের লাশ ফিরেছে।
ইসরায়েল রেড ক্রসের মাধ্যমে ৩০ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ গাজায় ফেরত পাঠিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে এটি মোট ১২০ জনের লাশ ফেরত আসার ঘটনা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি ১৫ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহের বিনিময়ে এক প্রতিটি মৃত ইসরায়েলির লাশ ফেরত পাঠানো হবে। এর আগে, আজ হামাস আরও দুটি মৃতদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা জানিয়েছে, মৃত বন্দীদের সমস্ত দেহাবশেষ পুনরায় তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বর্তমানে ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া, এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
অঞ্চলটিতে খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, এবং দুর্ভিক্ষে আরও শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপরও গুলি চালিয়েছে, যার ফলে অনেকেই নিহত হয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বর মাসে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। গাজার উপত্যকায় চলমান সংঘর্ষের কারণে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মুখোমুখি গণহত্যার মামলা মোকাবিলা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির এই পর্যায়ে লাশ হস্তান্তর মানবিক সহমর্মিতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবুও, এই অঞ্চলে সাধারণ মানুষের জীবন এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।
এতে করে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের নজর কেবল গাজার মানবিক পরিস্থিতির দিকে আরও বাড়ছে। খাদ্য, পানীয় জল, ও চিকিৎসা সেবার তীব্র সংকট অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে এমন লাশ হস্তান্তরের ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি সঙ্কেত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, অন্তত কিছু মানবিক প্রক্রিয়া এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে, সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ, এবং নিরীহ মানুষের জীবন অজানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গাজার হাসপাতালগুলো এখনও অর্ধেকের বেশি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা মানুষদের উদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে গেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী মানুষদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের আহ্বান জানাচ্ছে।