মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি—রাশিয়া ও ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সক্ষম একমাত্র নেতা হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। তিনি জানান, দুই দেশই এরদোগানকে সম্মান করে এবং তাঁর মধ্যস্থতায় শান্তি সম্ভব।
মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে এমন একমাত্র নেতা আছেন যিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেন—তিনি হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এরদোগান এমন একজন নেতা যাকে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই সম্মান করে। আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও অত্যন্ত ভালো। ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের কোনো বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে আমি নিজেই তা সমাধানে মধ্যস্থতা করি।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস—এরদোগানের হাত ধরেই এই যুদ্ধের ইতি ঘটানো সম্ভব। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এই সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, এরদোগানের মধ্যস্থতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো ইতোমধ্যেই কৌশলগত ভাবনা শুরু করেছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কূটনৈতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
এর আগে সোমবার ট্রাম্প ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি মিশরের শার্ম আল-শেখ শহরে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে তারা এরদোগানসহ ২০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতাকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে ট্রাম্প আহ্বান জানান, কিয়েভ ও মস্কো যেন আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
একই সময়ে এরদোগান জানান, তুরস্ক সবসময় শান্তি স্থাপনের পক্ষে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা স্থায়ী শান্তি চাই। তুরস্ক সবসময় সংলাপ ও সমঝোতার পথে বিশ্বাসী।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইতোমধ্যেই লক্ষাধিক প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই তুরস্ক একাধিকবার শান্তিচুক্তি প্রস্তাব দিয়েছে, যদিও তাতে এখনো বাস্তব অগ্রগতি আসেনি। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে কূটনৈতিক মহলে যে, হয়তো এবার বিশ্ব দেখতে পাবে এক নতুন শান্তির অধ্যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক বর্তমানে এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ের সঙ্গেই তার কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো। সেই কারণে এরদোগান যদি সত্যিই মধ্যস্থতায় নামেন, তবে যুদ্ধ বন্ধের একটি বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের নজর এখন এরদোগান ও তুরস্কের দিকে—তিনি কি পারবেন ইতিহাস বদলাতে? সেটাই সময় বলে দেবে।