যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবার হতে পারে সবচেয়ে দীর্ঘ সরকারি শাটডাউন। স্পিকার মাইক জনসন সতর্ক করেছেন—রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের অচলাবস্থা না কাটলে দেশ অনির্দিষ্টকালের অচলায়তনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে। চলমান সরকারি শাটডাউন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এবারকার শাটডাউন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন হাউসের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন।
বর্তমানে শাটডাউন চলছে টানা ১৩ দিন ধরে। রাজধানী ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সামনে একা দাঁড়িয়ে স্পিকার জনসন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যেসব ফেডারেল কর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার জানা ছিল না। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে সতর্ক করেছেন যে, সামনে আরও “বেদনাদায়ক ছাঁটাই” আসছে। তবে এসব ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ফেডারেল কর্মচারী ইউনিয়নগুলো আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
লুইজিয়ানার প্রতিনিধি ও হাউস স্পিকার মাইক জনসন বলেন, “আমরা আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ শাটডাউনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি।” ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বাজেট ও অর্থায়ন নিয়ে কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত না থাকায় এই অচলাবস্থা অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান জাদুঘরসহ দেশজুড়ে অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও। বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আগে থেকেই মুদ্রাস্ফীতি, কর্মসংকট ও উচ্চ সুদের হারের চাপে থাকা মার্কিন অর্থনীতি এখন আরও অনিশ্চয়তার মুখে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি দ্রুত কোনো রাজনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
বর্তমান শাটডাউনের কারণে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউসে অধিবেশন স্থগিত রয়েছে। স্পিকার জনসন আইনপ্রণেতাদের ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফেডারেল ছুটির কারণে সোমবার বন্ধ ছিল কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। মঙ্গলবার থেকে সিনেটের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও তা কার্যত ব্যর্থ ভোটাভুটির জটেই আটকে আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবা তহবিল ও অভিবাসন নীতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে চলমান বিরোধই মূলত এই অচলাবস্থার কারণ। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা বাজেটে কাটছাঁটের প্রস্তাবে সায় না দেওয়ায় আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম শাটডাউনটি হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের প্রথম দিকে। ২০১৯ সালে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ৩৫ দিন ধরে স্থবির হয়ে পড়েছিল মার্কিন প্রশাসন।
বর্তমান পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ট্রাম্প আমলের সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবারের শাটডাউন। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফল শুধু আমেরিকার অর্থনীতি নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও গভীর প্রভাব ফেলবে।