সরকারকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেছি' | Rumeen Farhana.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সরকারকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেছি' | Rumeen Farhana..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সরকারকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেছি' | Rumeen Farhana..
সরকারকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখেছি' | Rumeen Farhana..
ছবি: সংগৃহীত
সকল রাজনৈতিক দলের অনাস্থা সত্ত্বেও বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে সরকার, যা নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক ষড়যন্ত্রের জন্ম দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক রাজনীতিক।..

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক ষড়যন্ত্র চলছে এবং সরকার একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত পক্ষপাত দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এক রাজনীতিক। তিনি দাবি করেছেন, দেশের কোনো মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তিই বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী নয়। তাদের মতে, ক্ষমতা ধরে রাখার আকাঙ্ক্ষামুক্ত একটি নিরপেক্ষ সেটআপ ছাড়া আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও অর্থবহ হবে না।

ভিডিওতে বক্তা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তিনি এই সরকারকে শুরু থেকেই একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি অনেক বেশি ঝুঁকে থাকতে দেখেছেন। তিনি নিয়োগকর্তা বলা থেকে শুরু করে 'মাস্টারমাইন্ড' বলা পর্যন্ত অসংখ্য উদাহরণ দিতে পারবেন বলেও উল্লেখ করেন। এই পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রশাসন তার নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে তার দাবি।

এই অভিযোগের বিপরীতে, মাঠের রাজনীতিতে একটি অদ্ভুত অনাস্থার চিত্র উঠে এসেছে। বক্তা উল্লেখ করেন, এক পক্ষ যেমন মনে করছে সরকার প্রতিপক্ষের প্রতি টিল্টেড, তেমনি অন্য পক্ষও মনে করছে সরকার এই পক্ষের প্রতি টিল্টেড। এর অর্থ হলো, মাঠে ক্রিয়াশীল কোনো রাজনৈতিক দলই সরকারকে বিশ্বাস করে না। প্রত্যেকেই মনে করে সরকার কোনো না কোনো দিকে ঝুঁকে আছে।

এমন পরিস্থিতিতে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বক্তা একটি ভিন্ন ধরনের সরকার ব্যবস্থার দাবি জানান। তার মতে, নির্বাচনের সময় এই সরকারের ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়। তিনি এমন এক সেট অব পিপল দিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যারা "পাঁচ বছর, দশ বছর, পঁচিশ বছর বা পঞ্চাশ বছরের খায়েশ ছাড়া" জাস্ট একটি নির্বাচন দেবে, তিন মাস থাকবে এবং নির্বাচন দিয়ে চলে যাবে।

বক্তা আরও মন্তব্য করেন যে, নির্বাচনটিকে ঘিরে ব্যাপক ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। একটি অংশ চায় না নির্বাচন হোক, কারণ তারা হয়তো মনে করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা যতটা জনসমর্থনের 'হাইপ' তুলছে, ভোটের মাঠে তাদের সেই পরিমাণ সমর্থন নেই। ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তাদের প্রকৃত জনভিত্তি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এই নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। কখনো তারা 'জুলাই সনদের' কথা বলছে, কখনো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না হলে নির্বাচনে না যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে, আবার কখনো বলছে একটি স্পেসিফিক মার্কা ছাড়া কোনো অবস্থাতেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। এই সকল কিছুই কেন জানি নির্বাচনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝে গত প্রায় চৌদ্দ মাস ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যার একটি প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময়ের বেশিরভাগ জুড়েই সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে ছিল।

পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি সাধারণ জনগণের আক্রমণের ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার চাকরি বদলানোর কথা বলেছেন, কারণ এখন যে কেউ যেকোনো সময় তাদের গায়ে হাত তুলে ফেলছে। একজন রিকশাচালক তাকে মারতে এসেছিল এবং একজন এডিশনাল এসপিকে হেনস্থা করার ঘটনাও ঘটেছে। এগুলি সমাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধার অভাবের একটি ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই 'অভ্যস্ততা'য় পরিণত হয়েছে। একসময় সেনাবাহিনী দেখলেই মানুষ যে সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করত, সেই অবস্থা এখন আর নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা নানান রকম নকশা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সামগ্রিক এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, দেশের রাজনীতি এখন আস্থার চরম সংকটে ভুগছে। এক পক্ষ যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চাইছে, তখন অন্য পক্ষ নানা কৌশলে নির্বাচনকে এড়িয়ে যেতে চাইছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

নির্বাচনকালীন সময়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারের ঝোঁক ও প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে চরম আস্থাহীনতা দেশের গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

نظری یافت نشد


News Card Generator