ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংসতা ও গাজা অবরোধের প্রতিবাদে যাত্রা করা ‘ফ্লোটিলা মিশন’-এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল মানবিক অবরোধ ভাঙা—বলেছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। তিনি জানান, ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধেই ছিল এই প্রতীকী যাত্রা।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যেই ‘ফ্লোটিলা মিশন’ শুরু হয়েছিল। তার ভাষায়, “ত্রাণ বিতরণ ছিল শুধুমাত্র একটি প্রতীকী কাজ। আসল উদ্দেশ্য ছিল দখলদার ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙা এবং বিশ্বের সামনে সত্য তুলে ধরা।
শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পান্থপথে দৃকপাঠ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি গাজা অভিমুখে যাত্রাকালে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আটক হয়ে কারাবন্দি ছিলেন শহিদুল আলম। মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে তিনি বলেন, “ইসরায়েল সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দেশটিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ফলে গাজার প্রকৃত চিত্র বিশ্ব জানতে পারছে না। আক্রান্ত হাসপাতালগুলোতে হামলা চালানো হচ্ছে, স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “যেখানে ইসরায়েল নিজেদের নৈতিক বাহিনী বলে দাবি করে, সেখানে তারা প্রতিদিন আন্তর্জাতিক আইন ভাঙছে। একটি নিরস্ত্র জাতির ওপর এমন নির্যাতন কীভাবে তারা চালায়, সেটাই এখন মানবতার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।”
শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শহিদুল আলম। এর আগে শুক্রবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ইসরায়েল থেকে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান তিনি। সেখানেই তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা ও নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয়ে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামে একটি বৈশ্বিক সংগঠন এই অভিযাত্রা শুরু করে। এতে অংশ নেয় আরও একটি উদ্যোগ ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’। মোট ৯টি নৌযানের এই বহরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরা যোগ দেন। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন শহিদুল আলম।
গত বুধবার (৮ অক্টোবর) ইসরায়েলি সেনারা বহরে আক্রমণ করে এবং সব সদস্যকে আটক করে নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে শহিদুল আলমসহ অনেকে ইসরায়েলের কুখ্যাত কেৎজিয়েত কারাগারে বন্দি হন। তাদের মুক্তির জন্য বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে কারামুক্ত হয়ে ইসরায়েল থেকে তুরস্কে যান শহিদুল আলম। দেশে ফেরার পর তিনি বলেন, “আমরা জানি, গাজায় মানুষের কষ্ট ভয়াবহ। কিন্তু এই যাত্রা ছিল তাদের পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা—একটি প্রতীক, যা জানায় মানবতার কোনো সীমানা নেই।
শহিদুল আলমের মুক্তি নিশ্চিত করতে সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ শহিদুল আলমের মতো মানবতার কণ্ঠস্বর নিয়ে গর্বিত।