নিজস্ব প্রতিবেদক :
বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার যমুনা নদীপাড়ে অবস্থিত সেই ভাইরাল বটগাছ—যে গাছটি একসময় স্থানীয়দের প্রানের প্রতীক ছিল—এখন আর নেই। মাত্র দুই দিন আগেও যা ছিল পূর্ব বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ সীমান্ত এলাকার মানুষের কাছে শান্তির আশ্রয়, সেটি এখন যমুনার গভীরে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কয়েকদিন ধরেই যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। নদীর স্রোতের তীব্রতায় বটগাছের আশেপাশের মাটি ধসে পড়ে, ধীরে ধীরে মাটির গভীরতা হারিয়ে ফেলে বিশাল এই গাছটি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে সেটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যমুনার গর্ভে মিলিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। অনেকেই বলেন, “এই গাছটা শুধু একটা গাছ ছিল না—এটা ছিল স্মৃতির অংশ, মিলনস্থল, প্রজন্মের সাক্ষী।”
কিন্তু শুধু গাছটি নয়, তার সঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে আশেপাশের দোকানপাট, ঘরবাড়ি, আবাদি জমিও। নদীভাঙনের কারণে বহু পরিবার এখন গৃহহীন। কেউ কেউ সামান্য কিছু অর্থের লোভে জমি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন, আবার কেউ বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যমুনা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ না নিলে গোসাইবাড়ী ও ভান্ডারবাড়ী এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়াও সময়ের ব্যাপার মাত্র। স্থানীয়দের ভাষায়, “নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছি আমরা।”