নারায়ণগঞ্জ বন্দরে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইনের। “জলাতঙ্ক নির্মূলে, কাজ করি সবাই মিলে” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন পোষা প্রাণীর বিনামূল্যে র্যাবিস ভ্যাক্সিন প্রদান করা হয়, যাতে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূলের জাতীয় লক্ষ্যে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া যায়।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই বিশেষ দিবসটি পালন করে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সরকার আশ্রাফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও ভেটেরিনারি সার্জন ডা. তাহমিদ হাসান ইমতিয়াজ, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ডা. সরকার আশ্রাফুল ইসলাম জানান, “আজকের এই কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে ১০০টি পোষা প্রাণী — কুকুর ও বিড়ালকে বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন প্রদান করা হচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে আরও ১০০টি প্রাণীকে ভ্যাক্সিন প্রদান করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জলাতঙ্ক সম্পূর্ণ নির্মূল করা।” তিনি আরও বলেন, “এ ধরণের ক্যাম্পেইন নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে জলাতঙ্কমুক্ত সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “জলাতঙ্ক থেকে বাঁচাতে পোষা প্রাণীদের ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার জলাতঙ্ক নির্মূলে কাজ করছে। এটি শুধু প্রাণীর স্বাস্থ্য নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে প্রাণীস্বাস্থ্য ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধ নিয়ে সচেতনতা বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ যদি পোষা প্রাণীদের নিয়মিত টিকা প্রদানে সক্রিয় ভূমিকা নেয়, তাহলে খুব শিগগিরই বাংলাদেশ জলাতঙ্কমুক্ত দেশের তালিকায় নাম লেখাতে পারবে।
উল্লেখ্য, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা মূলত কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা দেওয়া হলে এ রোগ শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। তাই পোষা প্রাণীদের নিয়মিত র্যাবিস ভ্যাক্সিন দেওয়া এবং মানুষকে সচেতন করার বিকল্প নেই।