গ্রেটা থুনবার্গ ‘ঝামেলাবাজ’, ওর ডাক্তার দেখানো দরকার: ট্রাম্প.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গ্রেটা থুনবার্গ ‘ঝামেলাবাজ’, ওর ডাক্তার দেখানো দরকার: ট্রাম্প..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
গ্রেটা থুনবার্গ ‘ঝামেলাবাজ’, ওর ডাক্তার দেখানো দরকার: ট্রাম্প..
গ্রেটা থুনবার্গ ‘ঝামেলাবাজ’, ওর ডাক্তার দেখানো দরকার: ট্রাম্প..
ছবি: সংগৃহীত
After Greta Thunberg’s arrest during the Gaza aid flotilla mission, Donald Trump called her a “troublemaker,” saying she needs medical help for anger issues. The climate activist accused Israel of tor..

গাজামুখী ত্রাণযাত্রায় অংশ নিয়ে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর গ্রেটা থুনবার্গকে ‘ঝামেলাবাজ’ বলে কটাক্ষ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, থুনবার্গের রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা রয়েছে এবং ওর ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি গাজা অভিমুখী ত্রাণ বহরে অংশ নিয়ে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঘটনায় ট্রাম্প থুনবার্গকে ‘ঝামেলাবাজ’ আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন, “ওর ডাক্তার দেখানো দরকার, ওর রাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা আছে।”

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গত শুক্রবার গাজা অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে রওনা হলে থুনবার্গসহ প্রায় চার শতাধিক কর্মীকে ইসরায়েলি বাহিনী জোরপূর্বক আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে প্রায় ১৩০ জনকে রবিবার তুরস্কে ফেরত পাঠানো হয়। থুনবার্গকে সোমবার গ্রিস হয়ে স্লোভাকিয়ায় পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “সে (থুনবার্গ) একেবারে ঝামেলাবাজ। আগে পরিবেশ নিয়ে মাতামাতি করত, এখন অন্য দিকে ঢুকে পড়েছে। ওর ডাক্তার দেখানো দরকার—রাগ নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা আছে।”

থুনবার্গের সহকর্মী ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, আটক থাকা অবস্থায় তাঁরা ইসরায়েলি কারাগারে ‘নির্যাতন’ ও ‘অমানবিক আচরণের’ শিকার হয়েছেন। তাঁদের দাবি, থুনবার্গকে মারধর করা হয়েছে এবং জোর করে ইসরায়েলের পতাকায় চুমু খাওয়ানো হয়েছে। যদিও ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে। বরং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির বলেছেন, “বন্দীদের কঠোর অবস্থায় রাখা নিয়ে আমি গর্বিত।”

এই মন্তব্যকে ঘিরে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েলি কারাগারে আন্দোলনকর্মীদের উপর এই আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প ও থুনবার্গের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ২০১৯ সালে থুনবার্গ টাইম ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হলে ট্রাম্প তাঁকে রাগ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা নিতে বলেন। তখন থুনবার্গ জবাবে নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) বায়োতে লিখেছিলেন, “এক কিশোরী, রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছি।”

সোমবার মুক্তি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে থুনবার্গ বলেন, “আমাদের আটক ও নির্যাতন নিয়ে অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু আসল বিষয় তা নয়। আসল বিষয় হলো—আমাদের চোখের সামনে গণহত্যা চলছে, যা সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কেউ যেন বলতে না পারে আমরা জানতাম না, কেউ যেন ভবিষ্যতে না বলে আমরা দেখিনি। ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে পুরো একটি জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে।”

থুনবার্গের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীরা আবারও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের চোখ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। গাজা, কঙ্গো, সুদান, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আছে। আমরা যা করছি, সেটাই ন্যূনতম মানবিক দায়িত্ব। মানুষ এত নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কল্পনাতীত। অবরুদ্ধ কোটি মানুষের খাবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, চলমান দখল ও বর্ণবাদের ধারাবাহিকতায়।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, থুনবার্গের এই সাম্প্রতিক অভিযান ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জলবায়ু আন্দোলন এবং মানবাধিকার ইস্যুকে নতুন এক রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের মন্তব্য হয়তো তাঁর সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াবে, কিন্তু তরুণ প্রজন্মের চোখে তা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের মানবিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator