জুলাই সনদ ঘোষিত না হলে সরকারের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, সনদটি আইনি ভিত্তি না পেলে সরকারের ৪২৪ দিনের শাসনই অবৈধ ঘোষণা হতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষিত না হলে এবং এর যদি আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে বর্তমান সরকারের ৪২৪ দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা অবৈধ হয়ে যাবে।”
রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা দীর্ঘমেয়াদে কোনো সরকারের পক্ষে টেকসই নয়।
অ্যাডভোকেট আকন্দ বলেন, “আমরা ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছি—এর বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশে আবার স্বৈরাচারের পুনরুত্থান ঘটবে। আমরা গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে চাই, কিন্তু স্বৈরাচারী রাজনীতির দিকে ফেরার ঝুঁকি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে ১০০ পারসেন্ট ভোটের পার্লামেন্ট প্রয়োজন। বর্তমানে মাত্র ৪০ পারসেন্ট ভোটার রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেন—এটিকে কোনোভাবেই পূর্ণ গণতন্ত্র বলা যায় না। আমরা আগামী নির্বাচনে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি চাই, যাতে কালো টাকা, মাস্তানি, কেন্দ্র দখল ও ভোট বাণিজ্যের অবসান ঘটে।”
বিশ্বের ৯১টি গণতান্ত্রিক দেশে পিআর পদ্ধতি চালু থাকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। যারা বলছেন—‘জনগণ পিআর বোঝে না’, তারা আসলে জনগণকে ছোট করছেন। জনগণই বোঝে, তাই ২৬টি দল পিআর পদ্ধতির দাবি জানাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বোঝে না রাজনৈতিক নেতারাই।”
তিনি সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করে বলেন, “কিছু দল বলছে, যারা পিআর চায় তারা নির্বাচনে যেতে চায় না। অথচ বাস্তবতা হলো—যাদের জনসমর্থন ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে, তারাই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। গত জুলাইয়ের পর থেকে তাদের জনপ্রিয়তা আরও কমেছে। এখন জাতির সামনে প্রশ্ন—তাহলে কি আপনারাই পরবর্তী নির্বাচন ব্যাহত করতে চান?”
সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুল। এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম, আনোয়ার হাসান সুজন, খন্দকার আবু হানিফ ও ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারি প্রমুখ।
অ্যাডভোকেট আকন্দের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, জামায়াত শুধু ধর্মীয় নয়, এখন একটি রাজনৈতিক সংস্কার আন্দোলনেও ভূমিকা রাখতে চায়। তাদের মতে, ‘জুলাই সনদ’ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ গণতন্ত্রের ভিত্তি। তিনি দাবি করেন, যদি এ সনদের আইনি স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে বর্তমান সরকার সংবিধান ও জনগণের আস্থার বাইরে চলে যাবে, যা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
তিনি বলেন, “আমরা সংবিধানবহির্ভূত সরকার চাই না, আমরা চাই জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার। যে সরকার সত্যিকারের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে, এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থাকবে।”
তার বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যায়, আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হতে পারে। জুলাই সনদ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন।