বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে আবেগ নয়, বাস্তবতা ও পেশাদার চিন্তাভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে বোর্ড পরিচালনায় আবেগ নয়, বাস্তব ও কার্যকর পরিকল্পনাই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি।
আমি মনে করি ক্রিকেট বোর্ডটা প্রফেশনালি চালানো উচিত। আবেগ বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক দিয়ে চিন্তা করা উচিত না। সবারই ভালো-মন্দ দিক আছে। তামিম ভাই কোনো এক দিকে ভালো করবেন, বুলবুল ভাই অন্য কোনো দিকে ভালো করবেন, আবার ফারুক ভাইও তার অভিজ্ঞতা দিয়ে অবদান রাখবেন। আমি মনে করি, সবার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে কাজে লাগানোই হবে দেশের ক্রিকেটের জন্য সঠিক পথ।
সম্প্রতি ফারুক আহমেদকে বিসিবি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশের অভিযোগ উঠেছিল। তবে আসিফ মাহমুদ এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে জানান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি ক্রিকেটারদের মতামত নিয়েছিলেন এবং বিকল্পদের তালিকায় ফারুক আহমেদের নামও ছিল। তিনি আরও বলেন, “ফারুক ভাইকে যখন সভাপতি করা হয়, তখনও আমি ক্রিকেটারদের থেকে মতামত নিয়েছি। তাদের কাছে অপশন রেখেছিলাম – এই চার-পাঁচজন আছে, আপনারা বলুন। তামিম ভাইও ফারুক ভাইয়ের নাম বলেছিলেন।
বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে চার মাস পার হয়েছে। এর মধ্যেই তার নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেট অঙ্গনে। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ মনে করেন, আমিনুল ইসলামকে আরও সময় দিলে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন।
ওনি ক্রিকেটটাকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন যদি সুযোগ দেওয়া হয়। তাকে আনার মূল কারণ ছিল আফগানিস্তানের ক্রিকেটকে তিনি অনেক উপরে তুলেছিলেন। এশিয়া অঞ্চলে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। ‘মিনি বিসিবি’ করার পরিকল্পনাটা অনেক আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। এখন সেটি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ওনার অভিজ্ঞতাটাকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।
দেশের ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে পেশাদার সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সঠিক পরিকল্পনা এবং অভিজ্ঞ জনবলকে কাজে লাগানোর ওপরই জোর দিচ্ছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তার মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আবেগের জায়গা নয়, বরং বাস্তবতা ও যুক্তিই হওয়া উচিত ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনার মূল নীতি।