জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, ভারত একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল অস্থিতিশীল করে তুলেছে এবং সেটি দখলের পাঁয়তারা করছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালীর হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের সাইফুল মার্কেটে আয়োজিত ঐক্য ও সংহতির সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ভারত শেষ ট্রাম্পকার্ড খেলে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। একটি ভুয়া ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা পাহাড়ি ও বাঙালিদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের পার্বত্য অঞ্চল দখলের ষড়যন্ত্র চলছে। ভারত আমাদের এই ভূখণ্ড কেড়ে নিতে চায়।
হান্নান মাসউদ আরও বলেন, “আমরা এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে ছাড়ব না। ১৯৭১ সালে যেমন পাকিস্তানের মোকাবিলা করেছি, তেমনি ২০২৫ সালেও ভারতকে মোকাবিলা করব। দেশের তরুণ নেতৃত্বকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। তারা যখন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, মানুষের কাছে যাচ্ছে, তখন তাদের বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে।
তিনি তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশ যে পথ দেখিয়েছে, সেই পথ অনুসরণ করেই ইন্দোনেশিয়া ও নেপাল নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বয়স মাত্র ৩৫ বছর। বাংলাদেশেও ৩৫ বছর বয়সী একজন তরুণ প্রধানমন্ত্রী হবে।”
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে হান্নান মাসউদ বলেন, “ভোটের সময় বিভিন্ন অতিথি পাখি এসে আপনাদের কাছে মায়াকান্না করবে। আমি আপনাদের সন্তান, তাই কখনো ভোট চাইতে আসব না। আপনারা বিপদে-আপদে যাকে পাশে পাবেন, তাকেই ভোট দেবেন।
এ সময় সমাবেশে হাতিয়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী শামছল তিব্রিজ, এনসিপি নেতা ইউছুপ, বাগছাসের কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হান্নান মাসউদের এই বক্তব্য পার্বত্য অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য দেশের অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলবে এবং আগামী নির্বাচনের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের ঐক্য এবং তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো বিদেশি ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না।