জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস হয়ে উঠেছেন আলোচনার কেন্দ্রে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তার নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকার গঠনের পর থেকেই নানা সমালোচনা, প্রশংসা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের ছয়জন রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। এ সফর নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রাশেদ খান। তবে এবার তিনি বিশেষভাবে কথা বলেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিত্ব, তার সরলতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, “ড. ইউনূস স্যারের সরলতা গুন বিশ্বে বিরল। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তা প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন না। এজন্যই আমি তাকে পছন্দ করি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস দুজন রাজনৈতিক প্রতিনিধিকে মঞ্চে তুলে বলেন—“these are the guys fighting on the street।” তখন প্রশ্ন ওঠে, বাকি চারজন প্রতিনিধি কি রাস্তায় লড়াই করেননি? এ নিয়ে অনেকেই ভ্রু কুঁচকান। কিন্তু রাশেদ খানের মতে, এটা ইউনূসের নিরপেক্ষতার অভাব নয়, বরং তার সরলতা ও অকপটতার প্রকাশ।
গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, “অন্য উপদেষ্টারা মাঝে মাঝে তাকে মনে করিয়ে দেন, স্যার, বাকিদের প্রতিও সমানভাবে ভালোবাসা দেখানো দরকার। নইলে মানুষ ভাববে সরকার পক্ষপাতদুষ্ট। তখন তিনি হাসিমুখে বলেন, আচ্ছা তাই নাকি! তাহলে তাদেরও ডাকো।
রাশেদ খানের ভাষায়, স্যারের এই সরলতা সত্যিই অনন্য। তিনি যদি দ্বিতীয়বার নোবেল পুরস্কার পান, তবে সেটা তার সরলতার জন্যই পাবেন। পৃথিবীতে এমন উদাহরণ বিরল। আমরা সবাই চাই তিনি যেন এই সরলতা ধরে রাখেন।
তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস যাকে ভালোবাসেন, সেটা অন্যদের মতো গোপন করেন না। তিনি প্রকাশ্যে জানান দেন। এতে অন্তত তাকে কেউ চতুর বা কুটিল রাজনীতিবিদ বলতে পারবে না। তার এই স্বচ্ছতা ও সরলতা আমাদের জন্য প্রেরণাদায়ক।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানান বিতর্ক, সমালোচনা ও প্রশংসার জন্ম হয়েছে। কিন্তু রাশেদ খানের দৃষ্টিতে তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং এমন একজন মানুষ, যিনি সরলতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করতে সক্ষম। এই গুণই তাকে পৃথিবীতে অনন্য করে তুলেছে।
ড. ইউনূস নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার জন্য। কিন্তু যদি সত্যিই তিনি আবারো নোবেল পান, তবে সেটা তার মানবিকতা ও সরলতার স্বীকৃতি হবে বলে মনে করছেন রাশেদ খান।
বর্তমান সময়ে যেখানে রাজনীতিতে জটিলতা, কৌশল আর দ্বিমুখিতা বেড়েই চলেছে, সেখানে একজন রাষ্ট্রনায়কের এমন সরল আচরণ নিঃসন্দেহে বিরল দৃষ্টান্ত।