গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ বলেছেন, আওয়ামী লীগের গণহত্যার বিচার না হলে তাদের রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।
গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার না হলে দলটির রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে কড়া মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য দেন, যা দ্রুত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আবু হানিফ তার পোস্টে লিখেছেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় দলটির শীর্ষ নেতারা দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়। এর মধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হলেও শেখ পরিবারের কোনো সদস্যকে আটক করা হয়নি। তার দাবি, শেখ পরিবারের সদস্যরা আগেভাগেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে দেশ ছাড়ে। কিন্তু বিপদে পড়েছে সেই সব নেতা ও কর্মীরা, যারা শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে দীর্ঘদিন নানা বেআইনি কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের নেতাদের অনেকেই দেশ ছাড়তে না পেরে এখন জনরোষের শিকার হচ্ছেন। তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, কেউ কেউ জনগণের হাতে নির্যাতিতও হচ্ছেন। অথচ যারা তাদের এসব কাজ করতে উৎসাহ দিয়েছে, সেই শীর্ষ নেতারা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে।
তার পোস্টে আরও বলা হয়, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে। কিন্তু এসব নির্দেশনা তাদের আরও বিপদে ফেলছে। কারণ, তারা নিরাপদ দূরত্বে বিদেশে বসে আরাম-আয়েশে থাকলেও মাঠে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের। এর ফলে তারা রাস্তায় নেমে জনগণের আক্রোশের শিকার হচ্ছেন, পুলিশের হাতে আটক হচ্ছেন, আবার জনতার রোষানলেও পড়ছেন।
আবু হানিফ কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, জনগণ এখন আওয়ামী লীগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাই তাদের বিচারের আগে রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, এ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, দুর্নীতি এবং জনগণের ওপর নিপীড়নের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে, যার সুষ্ঠু বিচার ছাড়া দেশের মানুষ কখনোই তাদের পুনরায় মেনে নেবে না।
তার এই পোস্ট রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, আওয়ামী লীগ যদি সত্যিই আবার রাজনীতির ময়দানে ফিরতে চায়, তবে প্রথমেই তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং জনগণের আদালতে জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সমর্থকরা বলছেন, এ ধরনের বক্তব্য মূলত দলের অস্তিত্ব সংকটকে ঘনীভূত করার প্রচেষ্টা। তবে সমালোচকরা মনে করেন, গত কয়েক মাসের রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রমাণ করেছে যে জনগণের বিরোধিতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনীতি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মন্তব্য শুধুমাত্র আবু হানিফের ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং একটি বড় অংশের জনমতকে প্রতিফলিত করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কৌশল ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সবশেষে আবু হানিফ তার পোস্টে লিখেছেন, জনগণ যেহেতু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাই তাদের বিচারের আগে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই। জনগণ ন্যায়বিচার চায় এবং সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতির দরজা বন্ধ থাকবে।