লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম ঘোষণা দেন—যারা পিআর পদ্ধতি বোঝেন না, তাদের বিনা টাকায় ক্লাস নিতে রাজি আছেন তিনি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা যখন নতুন করে তীব্র হচ্ছে, তখন বিষয়টি ঘিরে সরাসরি মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, “অনেকে বলেন পিআর নাকি বোঝেন না। যারা সত্যিই না বোঝেন, তাদের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিনা টাকায় পিআরের ক্লাস নিতে প্রস্তুত।”
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। মিছিলটি শহরের দক্ষিণ তেমুহনী থেকে শুরু হয়ে উত্তর তেমুহনীতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি।
ড. রেজাউল করিম বলেন, “যদি কালো টাকা, চাঁদাবাজি, ফ্যাসিবাদ ও পেশিশক্তির দাপটমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে হয়, তবে মানুষের প্রকৃত ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের স্বার্থে এটি জরুরি।” তিনি দাবি করেন, ৭১ শতাংশ মানুষ পিআরের পক্ষে মত দিয়েছেন, তাই এই দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য হতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, “অনেকেই প্রচার করছেন আমরা নাকি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাই। অথচ বাস্তবতা হলো, যারা এ ধরনের অভিযোগ করছে, তারাই এখনো প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি। আমরা ইতিমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী প্রস্তুত করেছি এবং রাজপথে মানুষের কাছে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্কার, বিচার ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করা হলে ফেব্রুয়ারিতেই একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এটাই সঠিক পথ।
এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মহসিন কবির মুরাদ, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান ও শহর শাখার সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ। বক্তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় পিআর পদ্ধতিকে কার্যকর করতে হবে।
লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন এবং সাধারণ মানুষকে পিআর পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য প্রচারণা চালানোর ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে শুধু রাজনীতিই নয়, দেশের ভবিষ্যৎও বদলে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামী এভাবে প্রকাশ্যে পিআর পদ্ধতি নিয়ে সরব হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম নেবে। বিশেষ করে যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই নির্বাচনী কাঠামো নিয়ে মতবিরোধ চলছে, তখন জামায়াতের এ অবস্থান অন্য দলগুলোকেও চাপের মুখে ফেলবে।
দেশের সাধারণ ভোটাররা কীভাবে বিষয়টিকে গ্রহণ করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তবে রেজাউল করিমের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার—জামায়াত নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং তারা পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে এক ইঞ্চিও সরে আসতে চায় না।