ড. ইউনূস নোবেল পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় আণ্ডা পেয়েছেন : ফয়জুল করিম.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ড. ইউনূস নোবেল পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় আণ্ডা পেয়েছেন : ফয়জুল করিম..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ড. ইউনূস নোবেল পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় আণ্ডা পেয়েছেন : ফয়জুল করিম..
ড. ইউনূস নোবেল পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় আণ্ডা পেয়েছেন : ফয়জুল করিম..
ছবি: সংগৃহীত
Mufti Syed Faizul Karim, Nayeb-e-Ameer of Islami Andolon Bangladesh, has slammed Nobel laureate Dr. Muhammad Yunus, claiming he has utterly failed in state governance and created inequality by favorin..

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শান্তিতে নোবেল পেলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। “তিনি নোবেল পেয়েছেন, কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় জিরো পেয়েছেন,”—বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী চৌরাস্তা স্টিলপট্টিতে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফয়জুল করিম বলেন, ড. ইউনূস নিরপেক্ষ নন। তার উচিত ছিল সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে বিদেশ সফরে গিয়ে দেশের উন্নয়ন ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। কিন্তু তিনি বরং কয়েকটি দলকে সঙ্গে নিয়ে বৈষম্য তৈরি করেছেন এবং অন্যদের প্রতি উপেক্ষা দেখিয়েছেন। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি আরও গভীর হয়েছে।

তিনি দেশের কিছু জরিপ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকারের তথ্য তুলে ধরে না, বরং নিজেদের মতো করে রিপোর্ট প্রকাশ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। “তারা রিপোর্টে লেখে ইসলামী আন্দোলনের কোনো ভোট নেই। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন—জনগণ আজ আলেম-ওলামাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, যোগ করেন তিনি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বোয়ালমারী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ও ময়না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আব্দুল হক মৃধা। সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও বৈষম্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

ফয়জুল করিম আরও বলেন, “৫৩ বছরে এদেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং দুর্নীতি ও বৈষম্য বেড়েছে। যে দলগুলো ক্ষমতায় ছিল, তারা বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে। সাধারণ মানুষ সব দেখেছে, তাই আজ তারা আলেম সমাজকে সমর্থন দিচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বর্তমানে ন্যায়বিচার নেই, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী জেলে—অন্যদিকে যারা আগে বাইরে ছিল, তারা এখন সক্রিয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণের কাছে প্রকৃত নেতৃত্ব ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

তার দাবি, দেশে ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলে দুর্নীতি কমবে, বৈষম্য দূর হবে, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বসবাস সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা যাবে। একইসঙ্গে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

সমাবেশে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই পিআর পদ্ধতিতে করতে হবে। যেকোনো মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফরিদপুর অঞ্চলের এই গণসমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ দেখা যায়। বক্তৃতা দেন ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ আকরাম আলী, ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি সরাফত হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওয়ালিউর রহমান রাসেল। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফুল ইসলামও বক্তব্য দেন।

বক্তারা একযোগে দাবি করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ইসলামি মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, তারা আর দুর্নীতি, বৈষম্য ও অবিচার দেখতে চায় না।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator