আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণ রুখে দেবে নৈরাজ্য: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণ রুখে দেবে নৈরাজ্য: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণ রুখে দেবে নৈরাজ্য: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ..
আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণ রুখে দেবে নৈরাজ্য: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ..
ছবি: সংগৃহীত
Dr. Shafiqul Islam Masud of Bangladesh Jamaat-e-Islami warned that no party can save Awami League, as the people will resist. He said Awami League’s dream of creating chaos will never be allowed by th..

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণ তা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেবে না। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ দেবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে এবং বিদেশে আশ্রয় নিয়ে দেশে থাকা সন্ত্রাসীদের দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। রাজপথ দখলে নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার এ স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ হয় এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারে, তবে জনগণ চুপ করে বসে থাকবে না। তখন আইনের দোহাই দিয়ে আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না। জনগণ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তবে আওয়ামী লীগের পরিণতি হবে ভয়াবহ।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এদিন বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের গুপ্ত হামলা ও দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদে ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ড. মাসুদ তার বক্তব্যে আরো বলেন, যারা পিআর বুঝে না, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার যোগ্য নয়। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী আখতার হোসেনকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, এই ঘটনায় বাংলাদেশ মিশন দায় এড়াতে পারবে না, কারণ আওয়ামী দোসররা সেখানেও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিসেবে দেশব্যাপী গুপ্ত হামলা, ঝটিকা মিছিল এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আওয়ামী লীগসহ তাদের শরিক ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় পার্টি ও জাসদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারও নির্বাচনের মাঠে প্রবেশের ষড়যন্ত্র করছে। যদি সরকার এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তবে দেশ ও জাতি কঠিন সংকটে পড়বে।

সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, আওয়ামী দোসরদের বিচার না করলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তাদের সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনতে পারছে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং ১৪ দলীয় জোট একত্রে জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। প্রতিটি গণহত্যার জন্য তারা সমানভাবে দায়ী।

ড. হেলাল উদ্দিন সমালোচনা করে বলেন, যারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে রাজপথে আসেনি, তারাই এখন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। কারণ তারা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিল। তিনি দাবি করেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে ছাত্র-জনতার প্রতিটি দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াই আজকের সংকটের মূল কারণ। তাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ব্যবহার করে গণহত্যার বিচার সম্পন্ন এবং ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন শাহজাহানপুর পূর্ব থানা আমীর মাওলানা শরীফুল ইসলাম, ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়, মতিঝিল-নয়াপল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator