বিশ্ব নেতারা বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তারা এই প্রতিশ্রুতি দেন।
বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দৃঢ় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ নেতারা। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনের সাইডলাইনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ইতালি, পাকিস্তান, ফিনল্যান্ড ও কসোভোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। নেতারা বলেন, বাংলাদেশ এই বিশাল মানবিক চাপ বহন করছে এবং এ সমস্যার টেকসই সমাধানে তারা সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটি নিয়েও মতবিনিময় হয়।
প্রতিটি বৈঠকেই বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ব নেতারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য স্বচ্ছ নির্বাচন অপরিহার্য। তারা বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার নিয়ে আলোচনা করেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে ইতালি-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা সম্মেলনে ইতালি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাবে এবং তিনি নিজেও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সফরের আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী বাংলাদেশের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে কসোভো স্বল্প সময়েই ইউরোপের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। কসোভোর অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক মজবুত করার অঙ্গীকার করা হয়।
ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ড. ইউনূস মেটলাইফ, শেভরন, এক্সেলেরেটসহ শীর্ষ মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। মার্কিন কোম্পানিগুলোও নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এছাড়া ক্লাব ডি মাদ্রিদের সভাপতি ও স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে তাকে সংগঠনের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে ইউনূসের বৈশ্বিক প্রভাবের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ইউনূসের নেতৃত্ব বৈশ্বিক পর্যায়ে মূল্যায়িত হবে।
মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের সভাপতি অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ এবং তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ও আলোচনায় আসে। অজয় বাঙ্গা ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বুধবারের বৈঠকগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে চার দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বৈঠকই অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং বাংলাদেশ কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করেছে।