ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ‘গুরুতর’ অভিযোগ তুলল ছাত্রদল | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ‘গুরুতর’ অভিযোগ তুলল ছাত্রদল

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ‘গুরুতর’ অভিযোগ তুলল ছাত্রদল
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ‘গুরুতর’ অভিযোগ তুলল ছাত্রদল
ছবি: সংগৃহীত
BNP-backed student leaders allege massive irregularities in the Ducsu election, claiming the administration deliberately ignored written complaints of vote fraud.

ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে ফের উঠল তীব্র বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদল সমর্থিত ডাকসুর পরাজিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এক বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, লিখিতভাবে নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়মের তথ্য প্রশাসনকে দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তা ধামাচাপা দিতে সময়ক্ষেপণ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল প্যানেলের আরও কয়েকজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তারা একযোগে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন জালিয়াতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার প্রায়ই নিশ্চিত করা যায়নি। আবিদুল ইসলাম খানের দাবি, ভোটার চিহ্নিতকরণের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ মারকার পেন ছিল অস্থায়ী প্রকৃতির। ফলে একই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিয়েছে কি না—তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে প্রবল সংশয় তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার কোন প্রেস থেকে ছাপানো হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি, যা বড় ধরনের অনিয়মেরই প্রমাণ। শুধু তাই নয়, ব্যালট পেপারে কোনো ক্রমিক নম্বর না থাকায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এইসব তথ্য গোপন করে প্রশাসন নির্বাচনকে বিতর্কিত করার পথ তৈরি করেছে বলে তার অভিযোগ।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে আবিদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, আচরণবিধি সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় পোলিং অফিসাররা সংবাদকর্মীদের বিভ্রান্ত করেছেন। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে আনা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ করা হয়, পোলিং অফিসারদের আচরণের কারণে ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীরা বারবার হয়রানির শিকার হয়েছেন, এমনকি ভিড় ও মবের মুখোমুখিও হতে হয়েছে।

ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীদের দাবি, নির্বাচনের দিন বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্যদের সহায়তায় বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানো হয়েছিল। এর ফলে বহিরাগত প্রভাব ও ভোট কারচুপির শঙ্কা আরও বেড়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক ভোট দিয়েছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

আবিদুল ইসলাম খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাই। ডাকসুর মতো একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি আমরা দেখেছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবুও নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো কর্মসূচি দিইনি, কারণ আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকুক।”

তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত শুরু করা এবং সকল অনিয়মের স্বচ্ছ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। নতুবা ভবিষ্যতের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য ও গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশও ভোট প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, ভোট গ্রহণের সময় সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা হয়নি এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে আবারও ছাত্রসমাজে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে, যা দ্রুত তদন্ত না হলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সংকটে রূপ নিতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator