সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন যুগ্ম সচিব আবুল হায়াত মোঃ রফিক।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল শেখ মোঃ সরওয়ার হোসেনকেও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিক মহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ (এসজিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি) দীর্ঘ সামরিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২২ সালের ১৯ জুলাই তাকে শেখ হাসিনার কার্যালয়ে সামরিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দায়িত্ব গ্রহণ করানো হয়। গণভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এসএসএফের মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান ও জিপিআরের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট কর্নেল মোবারক হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বয়ং শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যরা এ আনন্দঘন মুহূর্তে অংশ নেন।
তার স্ত্রী ফাতেমা কবির, ছেলে ইসমাম আহমেদ ও মেয়ে আরিবা তখন গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্বকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী বৈঠকে তার উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো।
সরকারের এই নিয়োগ শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়, বরং কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় পদক্ষেপ। সামরিক পটভূমি সম্পন্ন কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ফলে বিদেশে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামরিক শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিজ্ঞতা এ ধরনের কূটনৈতিক দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে মেজর জেনারেল শেখ মোঃ সরওয়ার হোসেন (এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি) সেনা বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়ে প্রশাসনিক দক্ষতা প্রদর্শন করেন। তারও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ বলে ধরা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি, সেখানে সামরিক অভিজ্ঞ রাষ্ট্রদূতরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, “সামরিক সচিব হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রদূতের পদে বসানো মানে শুধু রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, বরং নিরাপত্তা কূটনীতিরও গুরুত্ব বাড়ানো। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।
মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও মেজর জেনারেল শেখ মোঃ সরওয়ার হোসেন—উভয়ের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ বাংলাদেশ কূটনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। সামরিক অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে তারা দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে অবদান রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে সরকার স্পষ্ট করেছে যে কেবল রাজনৈতিক পটভূমি নয়, বরং অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তাদেরও কূটনীতিতে সম্পৃক্ত করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়।