এশিয়া কাপ ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে যখন দুই দেশের ভক্ত-সমর্থকরা টানটান উত্তেজনায় রয়েছে, তখন মাঠের বাইরেও তৈরি হলো নতুন এক অস্থিরতা। খেলার ঠিক একদিন আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জম্মু-কাশ্মীরের কুপারার নাওগাম সেক্টরে ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে চলা এই গোলাগুলি সীমান্ত এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়াটুডে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে হঠাৎ করেই গুলি বিনিময় শুরু হয়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, এটি সামান্য উসকানি বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর দুই দেশের সেনার পাল্টাপাল্টি গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। গোলাগুলি ধাপে ধাপে তীব্রতা পেলেও রাত নামার আগে তা পুরোপুরি থেমে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গোলাগুলির পরপরই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে বের হয়ে আসেন। তবে সৌভাগ্যবশত, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলেছে, “এটা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ছোটখাট গোলাগুলির ঘটনা হয়েছে মাত্র।”
যদিও উভয় দেশ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে সীমান্ত এলাকাগুলোতে সেনাদের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে ‘নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মে মাসেও সীমান্ত উত্তেজনার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তখন ভারতীয় সেনারা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি অভিযানে অংশ নেয়। চার দিনব্যাপী চলা সেই অভিযানে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়, পরে তা যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া কাপের মতো উচ্চ ভোল্টেজ ক্রিকেট ম্যাচের আগে এমন একটি ঘটনা দুই দেশের ভেতরে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও আপাতত সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকায় বড় ধরনের আশঙ্কা নেই, তবে সীমান্তের ঘটনাগুলো সবসময়ই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
ম্যাচের আগের দিন ঘটে যাওয়া এ ধরনের গোলাগুলি শুধু সীমান্ত নয়, ক্রিকেটপ্রেমীদের মনেও এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং ম্যাচের পরিবেশে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে এখন পর্যন্ত আয়োজক কর্তৃপক্ষ বা দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
দুই দেশের সেনাদের আকস্মিক সংঘর্ষ প্রমাণ করে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জটিলতা এখনও অমীমাংসিত। কাশ্মীর ইস্যু থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ঘটনার কারণে বহুবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও ক্রিকেট মাঠে দুই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে খেলাধুলার আবহ তৈরি করতে, বাস্তবে সেই উত্তেজনা সীমান্ত পেরিয়ে ভিন্ন মাত্রা নেয়।
পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুই দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলও চাইছে, আর যেন কোনো ধরনের সংঘাত না ঘটে এবং খেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। কারণ সীমান্তের প্রতিটি সংঘর্ষ কেবল সেনাদের নয়, সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবনকেও বিপন্ন করে তোলে।