বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচনী পদ্ধতি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
গবেষণা সংস্থা ‘ইনোভেশন’-এর একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “পিআর (Proportional Representation) নাকি বিদ্যমান পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে—এর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর। সরকার এ বিষয়ে যতটা সম্ভব কম বক্তব্য রাখাই শ্রেয়।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের বিপুল অংশগ্রহণের ইচ্ছা একটি ইতিবাচক সংকেত। তাঁর ভাষায়, “দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চাওয়ার অর্থ হলো, সামনে একটি সর্বসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা রাখে। তবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই আস্থার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম।
অন্যদিকে, জরিপে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—দেশের ৫৬ শতাংশ মানুষ এখনও জানেন না পিআর পদ্ধতি আসলে কী। যেখানে মাত্র ২১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতির পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ২২ দশমিক ২ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন।
‘ইনোভেশন’-এর জরিপে মোট ১০ হাজার ৪১৩ জন উত্তরদাতা অংশ নেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই এ ফলাফল তৈরি করা হয়। নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, জনগণের আস্থা এবং নতুন পদ্ধতির প্রতি জনমতের বিভাজন—সবকিছুই জরিপে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পিআর পদ্ধতি নিয়ে দেশে যে সচেতনতার অভাব রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে এ জরিপে উঠে এসেছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলো যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তবে আগে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যদিকে, বিদ্যমান পদ্ধতি নিয়েই অনেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি তুলছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা ও উদ্বেগের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। প্রেস সচিবের মন্তব্য স্পষ্ট করেছে যে সরকার এ সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে নেই; বরং রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যই ভবিষ্যতের পথচিত্র নির্ধারণ করবে।