‘নির্বাচনের জন্য বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন একজন’ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

‘নির্বাচনের জন্য বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন একজন’

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
‘নির্বাচনের জন্য বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন একজন’
‘নির্বাচনের জন্য বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন একজন’
ছবি: সংগৃহীত
Sharif Osman Hadi, spokesperson of Inqilab Moncho, has announced his independent candidacy for Dhaka-8 in the upcoming national election. With overseas financial support and a one-page manifesto, his ..

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-৮ এ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি মতিঝিল এলাকায় জনসংযোগ করেন এবং পরে সাংবাদিকদের সামনে নিজের পরিকল্পনা ও ইশতেহার তুলে ধরেন।

সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে শরিফ ওসমান হাদী জানান, বিদেশে থাকা তার এক আত্মীয় নির্বাচনী প্রচারের জন্য ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার নির্বাচনের জন্য বিদেশ থেকে একজন ভাই ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি চান প্রতিদিন ক্যাম্পেইনে যেন সবাইকে কিছু খাওয়াই। এই ২০ হাজার টাকা আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকার সমান।”

তিনি আরও যোগ করেন, এই সহায়তা কেবল অর্থমূল্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নির্বাচনী সংগ্রামে মানুষের আন্তরিক সমর্থন ও আস্থার প্রতিফলন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শরিফ ওসমান হাদী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ইস্যুতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা নিম্নকক্ষে পিআর চাই না। নিম্নকক্ষে পিআর হলে আওয়ামী লীগ তার অনেক লোককে এর মধ্য দিয়ে সামনে আনার চেষ্টা করবে। তবে আমরা উচ্চকক্ষে অবশ্যই পিআর চাই।

তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, বাংলাদেশে পিআর ব্যবস্থা নিয়ে এর আগে বিভিন্ন দল মত প্রকাশ করলেও, নির্দিষ্টভাবে নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ আলাদা করে এই অবস্থান প্রকাশ খুব একটা দেখা যায়নি।

নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন ও ভিন্নধর্মী প্রচারণা কৌশল নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছেন শরিফ ওসমান হাদী। তিনি জানান, “আমাদের ইশতেহার মাত্র এক পৃষ্ঠা। আমরা সেটি শাহবাগ মোড়ে ঝুলিয়ে রাখব। মানুষ যদি আমাদের সংসদে পাঠায়, তাহলে এই ইশতেহারের কয়টা বাস্তবায়ন করলাম আর কয়টা পারলাম না সে বিষয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করব।”

তার দাবি, দীর্ঘ ও জটিল ইশতেহারের মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং স্বচ্ছ, সরল এবং সহজবোধ্য অঙ্গীকারের মাধ্যমেই জনগণ প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে পাবে।

তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে শরিফ ওসমান হাদী বলেন, “যদি কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে আমাদের মতো তরুণদের সংসদে যাওয়া দরকার, তাহলে তারা আমার আসনে প্রার্থী না-ও দিতে পারে। তবে আমি নিজে ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লার প্রতিনিধি হতে চাই না।

তার এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে তিনি দলীয় প্রতীক বা বড় দলের আশ্রয় নিতে চান না। তিনি স্বাধীনভাবে ভোটারদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শরিফ ওসমান হাদীর এই ব্যতিক্রমী নির্বাচনী কৌশল তরুণ ভোটারদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এক পৃষ্ঠার ইশতেহার, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার স্বচ্ছ ঘোষণা এবং দলের প্রতীক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, অর্থনৈতিকভাবে সীমিত সম্পদ নিয়ে তিনি কতদূর এগোতে পারবেন তা এখনো অনিশ্চিত। তবে সাহসী উদ্যোগ এবং ভিন্নধর্মী বার্তা তাকে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অন্তত ব্যতিক্রমী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রতিযোগিতা আরও জমে উঠবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। আর সেখানে শরিফ ওসমান হাদীর উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator