রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহেদ উর রহমান সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাকে কেউ ব্ল্যাকমেইল করে কোনো কিছু বলাতে বা করাতে পারবে না। তার মতে, এ ধরনের অপপ্রচার কেবল তার সক্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি কৌশল, যা নানা মহল থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালানো হচ্ছে।
গত রবিবার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে জাহেদ উর রহমান লিখেন, “আমাকে কেউ কোনোভাবে ব্ল্যাকমেইল করে কিছু করাচ্ছে বা বলাচ্ছে – এমন দাবি সর্বৈব মিথ্যা। ব্ল্যাকমেইল করার মতো কোনো দুর্বলতা আমার নেই।” তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যেসব আলোচনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
তার স্ত্রী আনা নাসরিন সম্প্রতি তাকে জড়িয়ে কিছু মন্তব্য করলেও জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, এসব নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন না। তার ভাষায়, “ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্যে আলোচনা করার চর্চাকে আমি অরুচিকর মনে করি।”
তবে বিষয়টি নিয়ে বাড়তি বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি জানিয়েছেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে নেওয়া হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আনা নাসরিনের যেকোনো সাম্প্রতিক বা ভবিষ্যতের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও আনা নাসরিনের জন্য শুভকামনা জানাতে ভোলেননি এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তার ভাষায়, “আমি আনা নাসরিনের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও সফল জীবন কামনা করছি।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাগুলোকে বিকৃত করে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে। এর মাধ্যমে একদিকে তার জনসম্পৃক্ত সক্রিয়তাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
জাহেদ উর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সরব। নানা সময়ে তিনি সমালোচক ও বিশ্লেষক হিসেবে আলোচনায় এসেছেন। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, ব্যক্তিগত জীবনের সংকটকেও রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে চাইছে কিছু মহল।
তিনি তার পোস্টের শেষাংশে পরিষ্কার জানিয়ে দেন, যত অপপ্রচারই হোক, তার এক্টিভিজমের লক্ষ্য ও অবস্থান বদলাবে না। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে ভাঙার কোনো সুযোগ নেই বলেও দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষক মহল মনে করছে, এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা নয়, বরং চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। কারণ, সামাজিক মাধ্যমে কারো ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুজব ছড়ানো এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়ালেও, সরাসরি জবাব দিয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানানোটা জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এখন সময়ই বলে দেবে, তার এই ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তবে স্পষ্টতই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ব্ল্যাকমেইল নয়, বরং স্বচ্ছতা ও দৃঢ় অবস্থানই তার পরিচয়।