এটা ডাকসু ইলেকশন না, সিনিয়র মাদরাসার ইলেকশন : ফজলুর রহমান | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

এটা ডাকসু ইলেকশন না, সিনিয়র মাদরাসার ইলেকশন : ফজলুর রহমান

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
এটা ডাকসু ইলেকশন না, সিনিয়র মাদরাসার ইলেকশন : ফজলুর রহমান
এটা ডাকসু ইলেকশন না, সিনিয়র মাদরাসার ইলেকশন : ফজলুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত
BNP leader and freedom fighter Advocate Fazlur Rahman has sparked controversy, claiming that the DUCSU election is nothing but a “Senior Madrasa election,” blaming Sheikh Hasina for allowing madrasa s..

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিএনপির আলোচিত নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান। সম্প্রতি একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “এটা কোনো ডাকসু ইলেকশন নয়, বরং সিনিয়র মাদরাসার নির্বাচন।” তার মতে, বর্তমান সরকারের নীতি এবং বিশেষ সুবিধার কারণেই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আলিম পরীক্ষার পর বিপুল সংখ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা মূলত শিক্ষার মান এবং প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে।

ফজলুর রহমান দাবি করেন, শেখ হাসিনার সময়েই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদরাসার ছেলেরা দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় অবাস্তবভাবে উচ্চ নম্বর পাচ্ছে। প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ৯০ শতাংশের বেশি মার্কস পায়। অথচ ইংরেজি বিষয়ে সেই মানদণ্ড নেই। অন্যদিকে স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও এইচএসসিতে সর্বোচ্চ ৬০–৭০ শতাংশের বেশি নম্বর তুলতে পারে না। ফলে আলিম পরীক্ষায় সহজে উচ্চ নম্বর পেয়ে মাদরাসার ছাত্ররা ভর্তি পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সংখ্যায় তারা এগিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান এখন প্রশ্নবিদ্ধ। “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আজ আমি কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় মনে করি না। এর বর্তমান অবস্থা বরং সিনিয়র মাদরাসার মতো। সরকার এবং কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি একে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যেখানে সাধারণ ছাত্ররা পিছিয়ে পড়ছে।

আলোচিত এই নেতা সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গণমাধ্যম এখন আর মুক্তভাবে কাজ করতে পারছে না। “ইউনূস সাহেবের কারণে সাংবাদিকদের হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। ফলে তারা এখন আর জনগণের আসল সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারছে না।

ফজলুর রহমান জামায়াত-শিবির নিয়েও তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে জামায়াত কখনোই পারবে না। মাওলানা আজহারির ওয়াজ শুনতে লাখো মানুষ গেলেও, ভোটের মাঠে সেই সমর্থন দেখা যায় না। ধর্মীয় রাজনীতি সর্বোচ্চ ৭% ভোট পেতে পারে, যা হিসেব করলে ২১টির মতো আসন। তবে বাস্তবে জামায়াত এবার ১০টির কম আসন পাবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এক সময় মানুষ জামায়াতকে ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা আবার মুখ দেখাতে শুরু করেছে। তবে জনগণ এখন বুঝে গেছে এরা কারা—এরা সেই রাজাকারের বংশধর। কাজেই এবার তাদের সমর্থন আরও কমে যাবে।”

ফজলুর রহমানের এসব বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে “সাহসী মন্তব্য” বলছেন, আবার অনেকে মনে করছেন তিনি অতিরঞ্জিত বক্তব্য দিয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের হেয় করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজিত করতে পারে এবং বিভাজন আরও গভীর করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই ফজলুর রহমানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, এ মন্তব্য ভোটার ও শিক্ষার্থীদের মাঝে কী প্রভাব ফেলে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় এটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator