ভারতের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত—শ ত্রুতা র পথে এগোবে নাকি ভালো প্রতিবেশী হবে: শাহবাজ শরিফ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভারতের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত—শ ত্রুতা র পথে এগোবে নাকি ভালো প্রতিবেশী হবে: শাহবাজ শরিফ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ভারতের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত—শ ত্রুতা র পথে এগোবে নাকি ভালো প্রতিবেশী হবে: শাহবাজ শরিফ..
ভারতের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত—শ ত্রুতা র পথে এগোবে নাকি ভালো প্রতিবেশী হবে: শাহবাজ শরিফ..
ছবি: সংগৃহীত
At a gathering of expatriate Pakistanis in London, PM Shehbaz Sharif said India must decide whether to continue hostility or become a good neighbor through fair dialogue. He emphasized that without re..

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভারতের সামনে এখন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। দেশটি যদি শত্রুতার পথ বেছে নেয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে। আর যদি ন্যায্য আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায়, তবে উভয় দেশই উপকৃত হবে।

শনিবার লন্ডনে প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন শাহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ভারত দুই প্রতিবেশী দেশ। ভৌগোলিক কারণে তারা একে অপরকে এড়িয়ে যেতে পারবে না। একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই একমাত্র বিকল্প। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে উল্লেখ করেন, “ভারতের উচিত এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া—তারা কি চিরদিনের মতো বৈরিতা বজায় রাখবে, নাকি ন্যায্য আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করবে।”

শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তব্যে ভারত-পাকিস্তানের ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিগত সময়ে দুই দেশের মধ্যে চারটি বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এসব সংঘাতে কোটি কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। অথচ সেই অর্থ জনগণের উন্নয়ন, স্কুল-কলেজ নির্মাণ, হাসপাতাল, অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহার করা যেত। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কখনো সমাধান দেয় না। আলোচনাই হতে পারে একমাত্র সমাধান।”

তবে তিনি শর্তও স্পষ্ট করেছেন। কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, “লাখ লাখ কাশ্মীরি মানুষের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। কাশ্মীর সমস্যার ন্যায্য সমাধানই হতে হবে আলোচনার ভিত্তি।”

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও শাহবাজ শরিফ কথা বলেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণহানির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, “গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যা নজিরবিহীন। বিশ্বকে এ বিষয়ে আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো চাই বা না চাই, তারা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতা জরুরি।

সমাবেশে পাকিস্তানের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, প্রবাসী পাকিস্তানিদের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে তারা দেশের প্রতি কতটা ভালোবাসা পোষণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসী পাকিস্তানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আউন চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, এই সমাবেশের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে, প্রবাসীরা শুধু আবেগে নয়, বরং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতেও সবসময় প্রস্তুত।

শাহবাজ শরিফ তাঁর বক্তৃতায় পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সাফল্য নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, গত কয়েক মাসে পাকিস্তান বৈশ্বিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে, যা নাগরিকদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং কৌশলগত বিষয় নিয়েও কথা বলেন।

ভাষণে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন “অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস”-এর কথা, যা গত মে মাসে ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল। এ ছাড়া অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক মিত্রতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলোতেও তিনি আলোকপাত করেন।

সবশেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনা চায়। তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্য, সমতার ভিত্তিতে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, “ন্যায্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ছাড়া কোনো সংলাপই টেকসই হতে পারে না

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator