জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ব্যক্তিগত জীবনের কারণে। সম্প্রতি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সাবেক সংগঠক শ্যামলী সুলতানা জেদনীর সঙ্গে আংটি বদল করেছেন তিনি। এই আংটি বদলের মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পর বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দু’জনের হাস্যোজ্জ্বল উপস্থিতি প্রকাশ পায়, যা দেখে তাদের দলীয় সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা অভিনন্দন জানান। এনসিপি এবং বাগছাসের বেশ কয়েকজন নেতা সরাসরি সেই পোস্টে শুভকামনা জানিয়ে মন্তব্য করেন।
তবে ঘটনাটি এখানেই থেমে থাকেনি। প্রবাসী সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, এটি হান্নান মাসউদের দ্বিতীয় বিয়ে। তার ভাষ্যমতে, মাসউদ এর আগে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়ায়। নির্ঝর তার পোস্টে লিখেন, “বন্দর বন্ধু মাসউদ বিয়ে করেছে! এইডাও নিউজ! প্রথম বিয়ে করে ডিভোর্সও হইছিলো, সেসব নিয়ে নিউজ তো করেননি! মাসউদ আগের বারের মতো ভুল যেন না হয়। ২য় বিয়ের অভিনন্দন!”
জাওয়াদ নির্ঝর আরও জানান, মাসউদের প্রথম স্ত্রী ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তবে প্রথম বিয়ের কিছুদিন পরেই তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং বিচ্ছেদ ঘটে। ফেসবুক পোস্টে তিনি নেটিজেনদের উদ্দেশে উল্লেখ করেন, “এখন আপনাদের প্রশ্ন, মাসউদের কি আগে বিয়ে হয়েছিল? জি হ্যা! তার প্রথম বউ নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী! আপনাদের তথ্যের সীমা খুব সীমিত, বলে নতুন করে জানলেন কেউ কেউ!”
এ পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ অভিনন্দন জানালেও অনেকেই অবাক হয়েছেন মাসউদের ব্যক্তিগত জীবনের এ তথ্য প্রকাশ্যে আসায়। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে বিষয়টি ঘিরে আলোচনা চলতে থাকে। কেউ কেউ বিষয়টিকে হান্নান মাসউদের ব্যক্তিগত জীবন হিসেবে সম্মান জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনা করেছেন কেন আগে গোপন রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে হান্নান মাসউদ বা শ্যামলী সুলতানা জেদনী—দু’জনের কেউই এ বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে মনে হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় বইছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ ঘটনাটি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এনসিপি সূত্রে কেউ কেউ জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে বিতর্ক ছড়ানো কাম্য নয়, তবে এটি মাসউদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এখন দেখার বিষয় হলো, হান্নান মাসউদ ও শ্যামলী সুলতানা জেদনী কীভাবে এ আলোচনা সামাল দেন। তারা যদি সরাসরি কোনো বক্তব্য দেন তবে বিতর্কের অবসান