এশিয়া কাপ : শুধু বাংলাদেশের ভাগ্যেই এমন পরিণতি! | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

এশিয়া কাপ : শুধু বাংলাদেশের ভাগ্যেই এমন পরিণতি!

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
এশিয়া কাপ : শুধু বাংলাদেশের ভাগ্যেই এমন পরিণতি!
এশিয়া কাপ : শুধু বাংলাদেশের ভাগ্যেই এমন পরিণতি!
ছবি: সংগৃহীত
Bangladesh faces a tough challenge in the Asia Cup Super Four as they are the only team forced to play back-to-back matches against India and Pakistan, unlike any other team.

এশিয়া কাপের মঞ্চে বাংলাদেশ সবসময়ই যেন অন্যরকম ভাগ্যের শিকার হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। চরম নাটকীয়তা শেষে যখন লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল সুপার ফোর পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল, তখনই সামনে চলে এলো এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা— শুধু বাংলাদেশকেই টানা দুই দিনে দুই ম্যাচ খেলতে হচ্ছে, যেখানে অন্য তিন দল পাচ্ছে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও সুবিধা।

‘বি’ গ্রুপে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে শ্রীলঙ্কা। তারা তিন ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। একই গ্রুপে দুই ম্যাচে জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপ থেকে এসেছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান। এই চার দলকে নিয়েই শুরু হচ্ছে সুপার ফোর পর্ব। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে একবার করে মুখোমুখি হবে।

বাংলাদেশের সুপার ফোর যাত্রা শুরু হবে ২০ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তিন দিনের বিরতি পেয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করার ঠিক পরের দিনই—২৫ সেপ্টেম্বর—পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে হবে সাকিব-লিটনদের। অর্থাৎ, বাংলাদেশই একমাত্র দল যাদের টানা দুই দিনে মাঠে নামতে হবে।

সুপার ফোরের বাকি তিন দল—শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তান—তাদের প্রত্যেকেই প্রতিটি ম্যাচের পর অন্তত একদিন বা তার বেশি সময় বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত পাচ্ছে বাড়তি সুবিধা। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর তাদের পরবর্তী খেলা ২৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ, ভারত পাচ্ছে দুই দিনের বিরতি। এরপর শেষ ম্যাচের আগে আরও একদিন বিশ্রাম। শুধু তাই নয়, ভারতের সবগুলো ম্যাচ হচ্ছে একই ভেন্যু—দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। এতে তাদের ভ্রমণ করতে হচ্ছে না, উইকেটের আচরণও থাকবে পরিচিত।

এদিকে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। প্রথম ম্যাচ খেলতে হবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, এরপর ভারতের সঙ্গে লড়াই শেষে কোনো বিশ্রাম ছাড়াই পরের দিন পাকিস্তানের বিপক্ষে নামতে হবে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে, ফলে ভ্রমণ ও মানসিক চাপের সঙ্গেও লড়তে হবে টাইগারদের। এই সূচি নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— কেন শুধু বাংলাদেশকেই এই অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলা হলো?

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিক্সচার তৈরি করতে গিয়ে আয়োজকরা হয়তো সম্প্রচার ও টেলিভিশন রেটিংকে গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু একটি দলের ন্যায্য সুযোগ যেন উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের মতো বড় দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

তবে বাংলাদেশের সমর্থকদের আশা, চাপে পড়লেও টাইগাররা লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে। কারণ, এশিয়া কাপে ইতিহাস বলছে— বাংলাদেশ বারবার প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজেদের প্রমাণ করেছে। এবারও হয়তো একই গল্প লেখা হতে পারে।

অন্যদিকে, ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। দুই দলের লড়াই সবসময়ই ক্রিকেট বিশ্বে আলাদা মাত্রা যোগ করে। এবার সুপার ফোর পর্বে তাদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে উত্তেজনা চরমে। শ্রীলঙ্কাও তাদের দারুণ ফর্ম ধরে রাখতে মরিয়া। ফলে সুপার ফোর পর্ব হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের আসল পরীক্ষা।

তবে সবার নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। প্রতিকূল সূচি আর ভাগ্যের নির্মম পরিণতির মাঝেও টাইগাররা যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে অবাক করা কোনো গল্প রচনা করাও অসম্ভব নয়।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator