স্কুলে ইসলামী শিক্ষার মান ও কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। তিনি মনে করেন, দেশের স্কুল সিস্টেমে ইসলামী শিক্ষার সিলেবাস যেমন দুর্বল, তেমনি শিক্ষকদের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন।
ড. গালিব বলেন, “ইসলাম বাংলাদেশের মানুষের জন্য শুধু ধর্ম নয়, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আত্মপরিচয়ও বটে। একটি জাতি বা দেশের কালেক্টিভ আইডেন্টিটি গড়ে ওঠে সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর। আমাদের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও ইসলাম ধর্ম সেই কমন বৈশিষ্ট্য।”
তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ যদি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে এ পরিচয়ের বৈশিষ্ট্যগুলোকে রক্ষা করা জরুরি। তার মতে, ইসলামী শিক্ষা শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং স্বাধীনতা রক্ষারও প্রশ্ন।
ড. গালিব সতর্ক করে বলেন, “আমরা যদি আমাদের সন্তানদের সঠিক ইসলামী শিক্ষা, ইসলামী ইতিহাস এবং বিশেষ করে এই ভূখণ্ডে মুসলিম শাসনের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় না পড়াই, তবে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি আরও জানান, মাদ্রাসা ব্যবস্থায় ইসলামের আকিদা ও ফিকহ পড়ানো হলেও ইতিহাস ততটা গুরুত্ব পায় না। অন্যদিকে স্কুল সিস্টেমে ইসলামী শিক্ষার সিলেবাস দুর্বল এবং শিক্ষকের মানও প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, এই দুটি জায়গায় দ্রুত সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি।
ড. মির্জা গালিব মনে করেন, ইসলামী শিক্ষাকে শক্তিশালী করা শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ। তার মতে, রাজনৈতিক কর্তব্যের তালিকায় ইসলামী শিক্ষাকে উন্নত করার বিষয়টি একেবারে শীর্ষে থাকা উচিত।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, ড. গালিবের এ বক্তব্য বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ শিক্ষায় ইসলামী শিক্ষার কাঠামো ও শিক্ষকের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এ নিয়ে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এখনও চোখে পড়েনি।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক সিলেবাস, দক্ষ শিক্ষক ও যুগোপযোগী শিক্ষণপদ্ধতি ছাড়া ইসলামী শিক্ষা কার্যকর হতে পারে না। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত হবে ইসলামী শিক্ষার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাওয়া।