আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে সরকারপন্থী এজেন্টরা থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি মনে করেন, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এখনো সরকারপন্থী শক্তির প্রভাব বিদ্যমান। এই অবস্থায় দেশবাসী একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করলেও সেটি বাস্তবে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নুরুল হক নুর লিখেছেন, “২৯ আগস্ট গণঅধিকার পরিষদের কার্যলয়ের সামনে সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা হাসিনার এজেন্টরা আমাদের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে, সেই ঘটনার বিচারহীনতার ২১ দিন পার হয়ে গেছে। অথচ এ ঘটনায় কোনো ধরনের জবাবদিহি হয়নি। তাহলে কীভাবে আশা করা যায় যে নির্বাচন চলাকালে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে?”
তিনি আরও লেখেন, “২০০৭ সালে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে আমাকে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। সামনে আর কাকে টার্গেট করা হবে? এই প্রশ্ন এখন গোটা জাতির সামনে।” নুরুল হক নুর দাবি করেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যে যেসব ব্যক্তি এখনো দলীয় প্রভাবিত হয়ে কাজ করছেন, তারা আসলে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবেন না। বরং তারা আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে পারেন।
তার ভাষায়, “এরা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনের সময় এরা যে লীগ ও জাপার দোসরদের ফেভার করবে না, তার গ্যারান্টি কোথায়? বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই ফ্যাসিবাদমুক্ত করতে হবে।”
নুরুল হক নুর আরও উল্লেখ করেন যে, গত জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। সেই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। আর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
তিনি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে আহ্বান জানান, “দেশবাসী এখন আর মেনে নেবে না কোনো প্রহসনের নির্বাচন। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। সেনাবাহিনী যদি সত্যিই দেশের সেবক হয়ে থাকে, তাহলে তাদের অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। নইলে বাংলাদেশ আবারও এক অন্ধকার রাজনৈতিক টানেলের ভেতর পড়ে যাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নুরুল হক নুরের এই বক্তব্য মূলত তরুণ প্রজন্মকে উদ্দীপ্ত করার চেষ্টা। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-যুব সমাজের বড় অংশ সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছে। তারা সুষ্ঠু ভোট ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। নুরুল হক নুর সেই জনমতকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এমন বার্তা দিয়েছেন।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ruling দল আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছেন, নুরুল হক নুর আসলে নির্বাচনের আগেই সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সবসময় দেশের সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে থাকে।
এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনেও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছিল, ভোটকেন্দ্র ও মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনী প্রকৃতপক্ষে নিরপেক্ষ থাকেনি। সেই প্রেক্ষাপটে নুরুল হক নুরের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন দেশবাসীর চোখ আসন্ন নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন কমিশন বারবার বলছে, তারা অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা কী হবে, সেনাবাহিনী ও প্রশাসন আসলেই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে কি না—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।