কুষ্টিয়ার কেয়ার হাসপাতাল এর কেয়ার কোথায়? অপারেশনের নামে মৃত্যুর ফাঁদ।.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কুষ্টিয়ার কেয়ার হাসপাতাল এর কেয়ার কোথায়? অপারেশনের নামে মৃত্যুর ফাঁদ।..

Badsha Alamgir avatar   
Badsha Alamgir
কুষ্টিয়ার কেয়ার হাসপাতাল এর কেয়ার কোথায়? অপারেশনের নামে মৃত্যুর ফাঁদ।..
কুষ্টিয়ার কেয়ার হাসপাতাল এর কেয়ার কোথায়? অপারেশনের নামে মৃত্যুর ফাঁদ।..
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় চিকিৎসার নামে চরম অবহেলা আর ভয়াবহ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে।..

সিজার অপারেশনের সময় রোগীর পেটে গজ কাপড় রেখে দেওয়া—এমন অমানবিক কাণ্ডে রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে। আর সেই অপরাধ আড়াল করতে গিয়ে ক্ষতিপূরণ চাইতে আসা স্বজনদের ওপর চালানো হয় লোহার পাইপ ও লাঠির আঘাত। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত তিনজন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া শহরের র‌্যাব গলিস্থ কেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি হন রোগী নুরুন নাহার হ্যাপী (৩৬)। সিজার অপারেশন পরিচালনা করেন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আলী (৫০)। অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেশনের সময় তিনি রোগীর পেটের ভেতরে সার্জারির গজ কাপড় ও অন্যান্য বস্তু রেখে সেলাই করে দেন। ৬ সেপ্টেম্বর ছাড়পত্র দিলেও রোগী ব্যথায় কাতরাতে থাকেন। পেট অস্বাভাবিক ফুলে ওঠায় এক্স-রে করে ধরা পড়ে অপারেশনের ভয়াবহ ভুল। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারে রোগীর পেট থেকে বের করা হয় সেই গজ কাপড়সহ জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা।

গতকাল ১৭ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুরে প্রমাণ হিসেবে সেই গজ কাপড় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে যান স্বজনরা। প্রথমে নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও ক্ষতিপূরণের প্রসঙ্গে মুখ খুলতেই ক্ষিপ্ত হন ডা. আলী। অভিযোগ রয়েছে—তার নির্দেশে সহযোগী সেলিম (৪০) ও আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। আহত হন অভিযোগকারী কারিবুল ইসলাম পারভেজ (১৯), খালু আশেক মওলা ও মামা সীমান্ত। সীমান্তের মাথায় আঘাত পেয়ে ফেটে যায় মাথা, দিতে হয় ৭-৮টি সেলাই। তিনজনই বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কুষ্টিয়া মডেল থানায়। এতে ডা. আলী, সহযোগী সেলিমসহ অজ্ঞাত ১২-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগকারী পারভেজের ভাষ্য—আমার খালার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিপূরণের দাবি করায় উল্টো আমাদের রক্তাক্ত করেছে। এখন আমার খালা ও স্বজনরা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।”

কুষ্টিয়া মডেল থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন—বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার নামে এমন অনিয়ম-অবহেলা প্রতিদিনই বাড়ছে। কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষ আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে কেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে কথা না বলে এড়িয়ে যান।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator