মজনুল বারী সিকদার সজিব ওরফে সজিব সিকদার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকার আলী হোসেন সিকদারের ছেলে। তিনি আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাকর্মীদের সাথে তিনিও ছাত্র জনতার উপর হামলা ও গুলি চালিয়েছেন। ওই সময় তাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। ওইসব ঘটনায় আশুলিয়া থানায় হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে অনেকগুলো। এরমধ্যে আশুলিয়া থানার বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামী সজিব সিকদার। ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামী হয়েও এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। এনিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মিছিলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সজিব সিকদার
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সজিব সিকদার তৎকালীন স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করেছে। স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার জুট ব্যবসা সহ বাড়ইপাড়া বাজারে দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করেছে প্রকাশ্যে। বনের জমিতে কেউ ঘর নির্মাণ করতে গেলে তাকে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হত। শুধু বনের জমিতে ঘর নির্মাণ নয়, বাড়ইপাড়া এলাকাতে কোন বিল্ডিং নির্মাণ শুরু হলেই তাকে চাঁদা দিতে হত। কেউ জমি বিক্রি করলেও তার মাধ্যমেই করতে হতো। ভবনের নির্মাণ কাজের জন্য মালামাল তার মাধ্যমেই ক্রয় করতে হত। কেউ নির্মাণ সামগ্রী তার কাছ থেকে না কিনে নিলে তার ভবনের কাজ বন্ধ করে দিত। এসব কাজে তাকে সব সময় সহযোগিতা করতো তার সহযোগী রবি সিকদারের ছেলে ওবায়দুল সিকদার, সাভার উপজেলা ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি শরীফ মোল্লার ছেলে ইকরা মোল্লা এবং শাহিদ মোল্লার ছেলে তুহিন মোল্লা। ওই সময়ে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ না করলেও এখন অনেকেই এবিষয়ে কথা বলছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাড়ইপাড়া এলাকার কয়েকজন মুদি দোকানী জানান, সজিব সিকদার আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে এমন কোন খারাপ কাজ নেই যা সে করেনি। বাড়ইপাড়া বাস স্ট্যান্ড সহ আশপাশের সবগুলো দোকান থেকে মাসিক ভাড়া হিসেবে চাঁদা নিত। বেশকিছু দোকান বনের জমি এবং সড়ক ও জনপদের জমিতে পড়ায় দোকানদাররা বাধ্য হয়েই তাকে মাসিক চাঁদা দিত।
শুধু দোকানপাট নয় টেম্পু স্ট্যান্ড থেকেও নিয়মিত চাঁদা নিত আওয়ামী লীগের এই নেতা।
ছাত্র-জনতা হত্যার দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলার আসামী তিনি। এরপরেও এখনো প্রকাশ্যে ঘুরছে এলাকায়। এনিয়ে এলাকাবাসি আতঙ্কে রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা ছাত্র-জনতা হত্যাকারী সজিব সিকদারকে গ্রেফতারের দাবী জানান এলাকাবাসি৷