ডাকসু নির্বাচনে টিএসসি কেন্দ্রে ফরহাদ-সাদিকের নামে টিক দেওয়া ব্যালট বিতর্কে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার ব্যাখ্যা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডাকসু নির্বাচনে টিএসসি কেন্দ্রে ফরহাদ-সাদিকের নামে টিক দেওয়া ব্যালট বিতর্কে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার ব্যাখ্যা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ডাকসু নির্বাচনে টিএসসি কেন্দ্রে ফরহাদ-সাদিকের নামে টিক দেওয়া ব্যালট বিতর্কে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার ব্যাখ্যা..
ডাকসু নির্বাচনে টিএসসি কেন্দ্রে ফরহাদ-সাদিকের নামে টিক দেওয়া ব্যালট বিতর্কে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার ব্যাখ্যা..
ছবি: সংগৃহীত
The Chief Returning Officer has responded to allegations of pre-marked ballots in favor of Farhad and Sadik at the TSC center during the DUCSU election, terming the incident questionable but resolved ..

ডাকসু নির্বাচনে টিএসসি কেন্দ্রে ফরহাদ ও সাদিকের নামে আগে থেকেই টিক দেওয়া ব্যালট সরবরাহের অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন চিফ রিটার্নিং অফিসার। তদন্তে ঘটনাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে টিএসসি কেন্দ্রে আলোচিত একটি অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ছিল, ভোটকেন্দ্রে আগে থেকেই চিহ্ন দেওয়া ব্যালট সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীদের মধ্যে শিবিরপন্থী হিসেবে পরিচিত ফরহাদ ও সাদিক কায়েমের নামের পাশে ‘টিক’ দেওয়া ছিল। এ বিষয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার তার স্বাক্ষরিত এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে টিএসসি কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র প্রধান ফোনে জরুরি তথ্য জানান। তিনি জানান, এক ছাত্রী (ভোটার) ১ নম্বর টেবিল থেকে ব্যালট গ্রহণ করে বুথে প্রবেশ করেন। প্রায় এক মিনিটেরও বেশি সময় ভেতরে থাকার পর তিনি বের হয়ে দাবি করেন যে, তার একটি ব্যালটে আগে থেকেই দুই প্রার্থীর পক্ষে ক্রস চিহ্ন দেওয়া রয়েছে।

ওই ছাত্রী তখন ওই ব্যালটে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপস্থিত পোলিং অফিসার ও ভোট ব্যবস্থাপকরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তারা তার কাছ থেকে চিহ্নিত ব্যালটটি সংগ্রহ করে আলাদা খামে সংরক্ষণ করেন এবং তাকে নতুন ব্যালট সরবরাহ করেন। পরে ওই ছাত্রী আবার বুথে প্রবেশ করে নিজের ভোট প্রদান করেন এবং কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

চিফ রিটার্নিং অফিসার জানান, ঘটনার বিষয়ে অবহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত ব্যালটটি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিনজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করা হয়। তাদের বক্তব্য কেন্দ্র প্রধানের বিবরণের সঙ্গে মিলে গেলে ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসিত হয়। ফলে প্রচলিত নিয়ম ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটেনি বলে উল্লেখ করা হয়।

পরে এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ নির্বাচন কর্তৃপক্ষের হাতে আসে। ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ছাত্রী চারবার ভোটকেন্দ্রের বুথে প্রবেশ করেছেন। প্রথমবার তিনি প্রায় ৪০ সেকেন্ড ভেতরে ছিলেন, দ্বিতীয়বার ৬৬ সেকেন্ড, তৃতীয়বার মাত্র ২ সেকেন্ড, আর চতুর্থবার তিনি ভেতরে অবস্থান করেন ১০ মিনিটেরও বেশি সময়। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট প্রদান শেষে কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

চিফ রিটার্নিং অফিসার আরও উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রে ওই ছাত্রীর বারবার বুথে প্রবেশ ও বের হয়ে আসা এবং সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তার আলাপচারিতা নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সন্দেহজনক মনে হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত চলছে এবং সঠিক তথ্য-উপাত্ত উদঘাটন করা হবে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator