বাংলাদেশে নির্বাচন পিছিয়ে গেলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার পাশাপাশি সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অবস্থান স্পষ্ট করছে। এরই মধ্যে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কথাও শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা সরকারের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে না পারে তাহলে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাদের বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি, নির্বাচনকে সফল করতে বিদেশি সহযোগীরাও সহায়তা করতে প্রস্তুত।
রুমিন ফারহানার মতে, “দেশের ভেতরে এবং বাইরে উভয় জায়গাতেই নির্বাচনী বাতাস বইছে। মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আছে। কিন্তু নির্বাচন বিলম্বিত হলে সেই প্রত্যাশা ভেঙে যাবে এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের ভেতরে যে দ্বন্দ্ব বা ‘অভ্যন্তরীণ সরকার’ নিয়ে গুঞ্জন আছে সেটি আলাদা করে রাখলেও দৃশ্যমান সরকারের পক্ষ থেকেও নির্বাচন পেছানোর আগ্রহ নেই। কারণ, তারা ভালোভাবেই জানে—ফেব্রুয়ারির পর নির্বাচনের সময় বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এদিকে, নির্বাচনের আগে ইসলামি দলগুলোও একত্রিত হয়ে যুগপৎ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু ধর্মভিত্তিক দল একসঙ্গে রাস্তায় নামার ঘোষণা দিয়েছে। এতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই আন্দোলন কি শুধু বিএনপিকে ঠেকানোর কৌশল, নাকি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ওপর আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ?
রুমিন ফারহানা এর জবাবে বলেন, সরকার একদিকে বিএনপিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও রয়েছে। তারা বুঝতে পারছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে দেশীয় রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিপাকে পড়বে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এখন শুধু সরকার নয়, দেশের সাধারণ জনগণও চায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হোক। কারণ, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে আস্থাহীনতা তৈরি হবে, যা রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘায়িত করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুমিন ফারহানার বক্তব্য কেবল বিএনপির অবস্থানই নয়, দেশের সাধারণ মানুষের উদ্বেগকেও তুলে ধরেছে। নির্বাচন যদি বিলম্বিত হয়, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সুতরাং, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা এখন দেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।